রাঙামাটিতে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বানভাসিদের দুর্ভোগ!

পাহাড়ে টানা গত এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধিতে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবিন্দ অবস্থা রয়েছে। শুক্রবার কর্ণফুলি নদীর পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ১৬টি জলকপাট দিয়ে তিন ফুট থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন ফুট করে জলকপাট খুলে দেয়া হলেও তেমন কোন বন্যার উন্নতি হয়নি।

বন্যার পানিতে অনেক গ্রাম ও বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে, যার ফলে বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা বেশ কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছেন এবং ত্রাণ বিতরণ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু আশ্রয় কেন্দ্রও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও সংকটজনক করে তুলেছে। স্থানীয়রা ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, তবে কিছু আশ্রয় কেন্দ্রও বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

এদিকে, উপজেলার বগাচতর, গুলশাখালী, মাইনীমূখ, কালাপাকুজ্জ্যা সহ ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এতে করে কৃষি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, গবাদি পশু নিয়ে কৃষকেরা পড়েছে বিপাকে। খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট চরমে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। ফলে লংগদু উপজেলার যোগাযোগ অচল হয়ে পড়েছে।
রাঙামাটিতে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বানভাসিদের দুর্ভোগ! 1

স্থানীয়রা জানায়, পানি বৃদ্ধির কারণে রান্না করা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে। দ্রুত পানি কমিয়ে দেয়ার দাবির জানান তারা।

পানিবন্দি রওশনা আরা জানান, শুনেছি কাপ্তাই বাধ খুলে দিয়েছে কিন্তু কোনভাবেই বাসা থেকে পানি কমছে না। আরও দিনদিন পানি বড়ছে। বাচ্চা নিয়ে খাওয়া দাওয়া খুব সমস্যা হচ্ছে। সরকার ত্রাণ না দিয়ে দ্রুত পানি কমিয়ে দিলে স্থানীয়রা সুবিধা পাবে। পানির কারণে বাচ্চাদের স্কুল-কলেজে যাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।

বগাচতর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, প্লাবিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে বলা হয়েছে। প্রত্যেকটি এলাকার লোকদের সাথে কথা বলে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাঙামাটিতে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, বানভাসিদের দুর্ভোগ! 2

প্লাবন পরিস্থিতি নিয়ে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাই জানান, কাপ্তাই
হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্লাবিত এলাকার সাধারণ মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসার জন্য বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ হতে ত্রাণ সামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, অতি বৃষ্টির ফলে সৃষ্টি বন্যা পরিস্থিতিতে কাপ্তাই হ্রদে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় তিন ধাপে সাড়ে তিন ফুট করে বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।