রাতের আঁধারে ইউএনওর হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিবাহ

পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলার পশ্চিম সোনাই গ্রামে নবম শ্রেণির এক কিশোরীর বিয়ে আয়োজন ভেস্তে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন।

সম্প্রতি এমনই একটি রাতের ঘটনায় কনের পিতাকে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন-২০১৭ অনুযায়ী অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং মুচলেকায় মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জানা যায়, বিশাল প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ও পোলাও-মাংসের আয়োজন চলছিল। কনে সেজে বসে আছে, বরযাত্রীর আগমনের অপেক্ষা মাত্র। কিন্তু বরযাত্রীর গাড়ির পরিবর্তে হাজির হন ইউএনও, সঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা। তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।

মাইনীমুখ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস ছালাম তালুকদার বলেন, ঘটনাটি আমি জানতাম না। ইউএনও স্যার আমাকে ফোন করলে ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি জানতে পারি। এরপর সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক সমস্যা এবং দেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিভাবকসহ স্থানীয় জনসাধারণের সচেতনতাই পারে বাল্যবিয়ে মুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে। এমন বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে প্রশাসন সব সময় সজাগ রয়েছে।

কিন্তু প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক অভিভাবক বাল্যবিয়ে দিয়ে থাকেন। বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। সকলের ঐক্যবদ্ধ সচেতনতাই পারবে এই সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে। লংগদু উপজেলাকে বাল্যবিয়েমুক্ত রাখতে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।