রোহিঙ্গা সংকটে কক্সবাজারের জনজীবন বিপর্যস্ত

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ইস্যু ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের নেতারা বলছেন, প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কারণে জেলার আর্থ-সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে।

উখিয়ার সীমান্তবর্তী পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বুধবার বিকেলে ফেসবুকে লিখেছেন, আমি দেশদ্রোহী নই, রোহিঙ্গাবিরোধী। কারণ প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা পালংখালী ইউনিয়নে, আমি অবশ্যই প্রতিবাদ করব।

তিনি অভিযোগ করেন, তার ইউনিয়নের ৫০ হাজার বাসিন্দা সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন, অথচ লাখ লাখ রোহিঙ্গার বহুমাত্রিক সমস্যার চাপ স্থানীয়দের ওপর পড়ছে।

গফুর উদ্দিন আরও দাবি করেন, দুই মাস আগে প্রায় ৬০ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে এনে স্থানীয়দের ঘরবাড়িতে রাখা হয়েছে। নতুন করে আরও ৫০ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের আমির নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, নতুন অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই সমীচীন নয়। প্রথমেই আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা এখন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজ এলাকায় রোহিঙ্গাসংক্রান্ত কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে।

কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ ন ম হেলাল উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে জেলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে বাজারব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, চুরি, ডাকাতি, ইয়াবা পাচারসহ নানা অপরাধ বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা। তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।