সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমূখ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে কোনোটি আংশিক আবার কোনোটি একেবারেই কাজ না করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। যদিও এসব অভিযোগ মানতে নারাজ অভিযুক্ত চেয়ারম্যান কামাল হোসেন কমল।
এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, নামমাত্র কাজ করে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিল খাত, মৌলিক থোক বরাদ্দ থেকে দ্বিতীয় কিস্তির বরাদ্দের টাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাইনীমূখ উচ্চ বিদ্যালয়ের ওয়াশরুম সংস্কারের) নামে উত্তোলন ও মেরামতের নামে ২ লাখ ৪৭ হাজার ২০০ টাকা প্রকল্পের সভাপতি সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রাবেয়া আক্তারকে তুলে দেন ইউপি চেয়ারম্যান।
অপরদিকে ইউনিয়নে কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের রাস্তা না করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর দেওয়ার নাম করেও টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন কেউ কেউ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাইনীমুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুন্নেচ্ছা রোজি জানান, কয়েক মাস আগে আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিদায়বরণ অনুষ্ঠানে এমপি এসেছিলেন। তখন তাড়াহুড়ো করে ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সভাপতি ফয়জুল আজীম নিজে একটি ওয়াশরুম বানিয়ে দেয়। এছাড়া কারা ওয়াশরুম সংস্কার বাবদ বরাদ্দ নিয়ে আসছে, কিসের বরাদ্দ এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে কিছুদিন ধরে শুনতেছি স্কুলের ওয়াশ রুমের সংস্কারের নামে বাজেট আসছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ২০০ টাকা।
মাইনীমুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন জানান, প্রকল্পের বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানিনা। আমি দায়িত্ব পাওয়ার আগে সভাপতি ছিলেন হাজী ফয়েজুল আজীম। আমি বিস্তারিত জেনে আপনাকে জানাতে পারবো।
এ বিষয়ে জানতে তৎকালীন সভাপতি হাজী ফয়েজুল আজীমকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার কল দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য রাবেয়া বেগম বলেন, বরাদ্দ পেয়ে মাইনীমুখ মডেল হাই স্কুলের ২টি টয়লেট সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। তারমধ্যে একটি সম্পন্ন ও অন্যটির কাজ চলমান রয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মাইনীমূখ ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন কমল বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আছে আর কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সত্য নয়।
প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, লংগদু থেকে ভারত চন্দ্র চাকমার বাড়ি পর্যন্ত ইট সলিং রাস্তা মেরামতের টাকা স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় রাস্তার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে কাজ করে দেয়া হবে।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, মাইনীমূখ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ আসলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।