শবে কদরের মাহাত্ম্য ও উদযাপনের প্রস্তুতিতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ব্যস্ততা

বাঘাইছড়ি

পবিত্র শবে কদর ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য সর্বোচ্চ ফজিলতপূর্ণ ও মহিমান্বিত রাত। এ রাতকে বলা হয় ‘হাজার মাসের চেয়েও উত্তম’ রাত, কারণ এই রাতেই আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির পথনির্দেশক কুরআন নাজিল করেছেন। তাই, রমজানের শেষ দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাতটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করতে বাঘাইছড়ির ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

শবে কদর সম্পর্কে কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ, এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের সমান সওয়াব এনে দেয়। এই রাতের বিশেষত্ব হলো, ফেরেশতারা পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে শান্তি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে আসেন। যারা এ রাতে ইবাদতে নিমগ্ন থাকবেন, তারা পাপ মোচন ও অনন্ত কল্যাণ লাভের সুযোগ পাবেন।

হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় শবে কদরে ইবাদত করবে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)।

শবে কদর উপলক্ষে বাঘাইছড়ির প্রধান মসজিদগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ইসলামিক সংগঠন বিশেষ দোয়া-মাহফিল, কুরআন তিলাওয়াত ও তাফসিরের আয়োজন করেছে।

শবে কদরের বিশেষত্ব উপলক্ষে শুধু মসজিদেই নয়, ঘরেও চলছে নানা আয়োজন। ইবাদতের পাশাপাশি পরিবারে বিশেষ খাবার তৈরির ধুম পড়েছে। অনেক পরিবারেই স্পেশাল রান্নার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে রুটি এবং গোশত অন্যতম। বাজারে মাংস ও পোল্ট্রি কেনার ভিড় লক্ষ করা গেছে, পাশাপাশি চাল গুঁড়ো করতেও ব্যস্ত অনেকে।

বাঘাইছড়ি চৌমুহনী জামে মসজিদের ইমাম আজিজুর রহমান জানান, শবে কদর হলো এমন এক রাত, যেখানে আল্লাহর অসংখ্য রহমত বর্ষিত হয়। আমরা বিশেষ দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত ও নফল নামাজের ব্যবস্থা করেছি, যাতে মুসল্লিরা এই রাতের বরকত লাভ করতে পারেন।

শবে কদরের রাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা রাতভর ইবাদতে মগ্ন থাকার প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিয়ামুল লাইল, তাহাজ্জুদ নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে তারা শবে কদরের পূর্ণ ফজিলত লাভের চেষ্টা করবেন।

স্থানীয় দিনমজুর মোহাম্মদ রফিক বলেন, শবে কদর আমাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ রাত। এই রাতে আমরা বিশেষভাবে ইবাদত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করবো। এই রাত আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারাবছর তো আর কামলা খাটলে হবে না, আখিরাতের জন্য ও আমাদের কিছু জমা করতে হবে।

শবে কদরের এই পবিত্র রাতে বাঘাইছড়ির ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া করবেন। সমাজে শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করবেন। এই মহিমান্বিত রাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যমে সকলের জীবন আলোকিত হোক এটাই যেন সবার প্রত্যাশা।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।