শীতের পাহাড়ে পর্যটকের ঢল, মুখর বান্দরবান-খাগড়াছড়ি

তীব্র শীতে জবুথবু পাহাড়ি অঞ্চল। দিনভর কুয়াশার আড়ালে পড়ে থাকে পাহাড়ি উচু-নিচু পথ। পাহাড়ি উপত্যাকাগুলোয় জমে থাকে কুয়াশার দল। দেখে মনে হয় সাদা মেঘের দল এই বুঝি নেমে আলো আকাশের পথ থেকে। সেই সাথে লুকোচুরি খেলতে থাকা সূর্যের অপরূপ দৃশ্য দেখে সহজেই মনে প্রশান্তি মেলে। একটু সাহস করতে পারলে এই শীতে পাহাড় হতে পারে মনের তৃপ্তির খোরাক। আর সেই ধারণা থেকেই পার্বত্য জেলার বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে ছুটে চলছেন পর্যটকেরা।

গত কয়েকদিনে পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বেড়েছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। শীতের মনোরম আবহাওয়ায় পাহাড়, ঝরনা ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

সরজমিনে দেখা গেছে, বান্দরবানের মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরি, তমাতুঙ্গী, প্রান্তিক লেক ও নীল দিগন্তসহ সব দর্শনীয় স্থান এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই ‘চাঁদের গাড়ি’তে করে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কোলাহলমুক্ত পরিবেশে সময় কাটাতে পেরে খুশি পর্যটকরা।

চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে মেঘলা পর্যটনকেন্দ্রে আসা পর্যটক মো. রায়হান বলেন, বান্দরবানের সৌন্দর্য অতুলনীয়। পাহাড়, মেঘ আর প্রকৃতির এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল। ঢাকা থেকে নীলাচল ঘুরতে আসা জেসমীন বলেন, বড়দিনের তিন দিনের ছুটিতে বান্দরবান ঘুরতে এসেছি। পাহাড়ের গঠন, ঝরনা আর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির বসবাস আমাকে মুগ্ধ করেছে।

বান্দরবান জেলা হোটেল-রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সংশ্লিষ্টরা একযোগে কাজ করছেন।

এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের জোন ইনচার্জ মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, প্রতিটি পর্যটন স্পটে ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। কোথাও হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে খাগড়াছড়িতেও পর্যটকের ভিড় চোখে পড়ার মতো। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র, রিছাং ঝরনা, দেবতার পুকুর, তৈদুছড়া ঝরনা, মায়াবিনী লেকসহ বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় জমেছে।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার ছায়েম মির্জা আজম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র ও মোড়ে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।