শুভ জন্মদিন–বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

0

৭৮ পেরিয়ে ৭৯তে পা রাখলেন সাত বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। দেশের প্রাচীনতম দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারনী ফোরাম- প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

২০১৯ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রাপ্ত, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ তাঁর জন্মদিনের অনুভূতি জানাতে গিয়ে চট্টগ্রাম খবরকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পদার্পন করবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রতা মুক্ত হবে এই দেশ। এই দেশে কোন কিছুর অভাব থাকবে না। একজীবনে মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, রাজনীতিবিদ হিসেবে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত দেশ দেখে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। জাতির সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এস রহমানের সন্তান মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নে। এস রহমান একজন নামকরা ব্যবসায়ীও ছিলেন। তিনি ১৯৪৪ সালে কলকাতায় ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর চট্টগ্রাম চলে আসেন। মোশাররফ হোসেনের দাদাও ছিলেন জনপ্রতিনিধি। তিনি ২০ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন ও ১৯৬২ সালে স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসিতে ভর্তি হন লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয়ে। যার রক্তেই রাজনীতি তিনিতো নিজেকে গুটিয়ে রাখার সুযোগ নেই।

ফলে যা হওয়ার তাই হলো, পশ্চিম পাকিস্তানেই জড়িয়ে পড়লেন জাতির পিতার ৬ দফা আন্দোলনে। দায়িত্ব পালন করেন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতি হিসেবে। ১৯৬৬ সালে ছয় দফার যৌক্তিকতা তুলে ধরে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তানে অধ্যয়নরত ছাত্রদের সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের এক সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করেন।

লাহোর থেকে দেশে ফিরে মানুষের কল্যাণ করার মহান ব্রত নিয়ে চট্টল শার্দুল এম.এ. আজিজের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হন। ১৯৭০ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

শুভ জন্মদিন–বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন 1

২৫ মার্চ ১৯৭১ এর বিধ্বংসী কালরাত চট্টগ্রামে পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চট্টগ্রামের সিনিয়র অবাঙালী অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফতেমিকে আদেশ দেয়া হয়। তারা কুমিল্লা থেকে অতিরিক্ত সৈন্য চট্টগ্রাম এনে গণহত্যার নীলনকশা প্রণয়ন করে। কিন্তু চট্টগ্রামে কালরাত্রির নৃশংসতা ঠেকাতে ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে সাহসী বীর বাঙালী যোদ্ধারা শুভপুর ব্রীজ উড়িয়ে দিয়ে কুমিল্লা থেকে আসা সেনাদলের পথ বন্ধ করে দেন।

এরপর চট্টগ্রাম শহর ও ক্যান্টনমেন্টের প্রধান প্রধান এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মোশররফ হোসনরা। পরবর্তীতে তিনি ভারত চলে যান এবং সি.ইন.সি স্পেশাল ট্রেনিং নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা করেন।

স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে তিনি সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধী দলীয় হুইপের এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সততার সাথে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন। তার দায়িত্বকালেই এই মন্ত্রণালয়ের বড় বড় প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি একই মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতিতে আসার পর তিনি দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বাকশাল এবং ’৭৭ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৮০ ও ৮৪ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯২, ১৯৯৬, ২০০৪ এবং ২০১২ সালে সভাপতি এবং একই সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন সৎ, ভদ্র, নম্র, স্পষ্টবাদী ও উদার মনোভাবের মানুষ হিসেবে নিজ দলের নেতাকর্মীসহ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের নিকট তার সুনাম রয়েছে। রাজনীতি করতে গিয়ে এ সুদীর্ঘ সময়ে তিনি কখনও কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেননি এবং কোন সন্ত্রাসী লালন করেননি। তিনি কখনও নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে আপোষ করেননি।

১৯৭৫ পরবর্তী বিভিন্ন সরকারের মন্ত্রী পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহবান তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিজ দলের আদর্শে অবিচল থেকেছেন সব সময়। রাজনীতি করতে এসে মুক্তিযুদ্ধসহ বহুবার তিনি জীবন মৃত্যুর মুখোমুখী হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

১৯৮০ সালে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট চত্বরে তৎকালীন বিএনপি’র সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক তিনি এবং আওয়ামীলীগের অনেক নেতৃবৃন্দ আক্রান্ত হন। এসময় সন্ত্রাসীরা তার পায়ের রগ কেটে দেয়। ১৯৮৮ সালে ২৪শে জানুয়ারী শেখ হাসিনার মিছিলে পুলিশ কর্তৃক গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করার ঘটনায় তিনিও মারাত্মকভাবে আহত হন। ১৯৯২ সালের ৮ মে ফটিকছড়িতে জামায়াত ক্যাডারদের সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে অলৈাকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

শুভ জন্মদিন–বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন 2

দাম্পত্য জীবনে তিনি স্ত্রী আয়েশা সুলতানার সাথে সংসার করছেন। খ্যাতিমান আইটি বিশেষজ্ঞ ও এসবিজি ইকোনোমিক জোন (মিরসরাই ইকোনোমিক জোন-১) এর এমডি মাহবুব রহমান রুহেলসহ তাঁর তিন ছেলে এবং একজন মেয়ে রয়েছে।

মিরসরাইয়ের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলকে অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি প্রস্তাব দিলে সেই চরে এখন গড়ে উঠছে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল। যা চট্টগ্রামসহ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

চট্টগ্রাম খবর/ফারুক

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm