শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমুদ্রবিদ্যা (ওশানোগ্রাফি) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম সরকারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। রবিবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ৫৬২তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান বিভাগের কার্যক্রম পরিদর্শনে গেলে সাইদুল ইসলাম দেরিতে উপস্থিত হন। বিষয়টি নিয়ে জবাব চাইলে তিনি বিভাগের আরেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে উচ্চস্বরে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরদিন, ২৭ নভেম্বর, ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সহকারী অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম সরকার ক্ষিপ্তভাবে বলেন, ননসেন্স তুই! তুই প্রফেসরগিরি দেখাস আমার সাথে! ফাজিল কোথাকার! এবং একাধিকবার অধ্যাপক মোসলেম উদ্দিনের দিকে তেড়ে যান।
ঘটনার পর অধ্যাপক মোসলেম উদ্দিন উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করে সাইদুল ইসলামের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান। তার ভাষ্য, অতীতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, অফিস রুম দখল এবং তদন্ত কমিটির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, সাইদুল ইসলাম সরকার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি আওয়ামী লীগের কৃষি উপকমিটির সদস্য। তিনি ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর বিরোধিতা করেছিলেন, যা কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হন অনেক শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে অফিসরুম দলীয়করণ, আসবাবপত্র জোরপূর্বক দখল এবং স্কলারশিপের জন্য মিথ্যা তথ্য প্রদানের মতো অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ পেয়ে তার বিরুদ্ধে ৬ মাস আগে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাফর উল্ল্যাহ তালুকদারকে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট একটিতদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তৎকালীন ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের অ্যাকাডেমিক কমিটি প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ‘গুরুতর অপরাধী’ হিসেবে সাইদুল ইসলামকে সকল কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম সরকার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। চিঠি পাওয়ার পর বিস্তারিত জানাব।
ওশানোগ্রাফি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুল আলম জানান, বিভাগীয়ভাবে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অধ্যাপক মোসলেম উদ্দিন নিজে অভিযোগ করেছেন। এখনো আনুষ্ঠানিক চিঠি আসেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এসেছে। তদন্তের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।