স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামবাসী মাথা নত করেননি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিএমপির পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর উদ্বোধন

0

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামবাসী কোনদিন মাথা নত করেননি। সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছেন। আর তার স্বাক্ষর হলো এই পুলিশ মুক্তিযোদ্ধ জাদুঘর।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) উদ্যোগে নির্মিত ‘সিএমপি পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ উদ্বোধন করেছেন । এসময় মন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের সাহসী ভূকিমা ও আত্মদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং এই উদ্যোগের জন্য সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীরকে ধন্যবাদ জানান।

সিএমপির সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। এসময় চন্দনাইশের সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বাঁশখালীর সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও ডবলমুরিং-পতেঙ্গা আসনের সাংসদ এমএ লতিফ, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামবাসী মাথা নত করেননি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 1

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে হামলা চালানো হলে পুলিশ প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। চট্টগ্রামেও এসপি শামসুল হক চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ভূমিকা রেখে শহীদ হয়েছেন। তার সঙ্গে মোট ৮১ জন পুলিশ সদস্য শাহদাত বরণ করেছিলেন। স্মৃতি জাদুঘরটি নির্মাণের জন্য পুলিশ কমিশনারকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি, শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তার এই উদ্যোগকে নতুন প্রজন্ম নিশ্চয়ই উপকৃত হবেন এবং নতুন প্রজন্ম জানতে পারবে স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামবাসী কোনদিন মাথা নত করেননি। সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে। তার এই স্বাক্ষর হলো এই মুক্তিযোদ্ধা যাদুঘর। ধন্যবাদ আপনাদের।

প্রায় ছয় হাজার বর্গফুট আয়তনের এই জাদুঘরে সংগ্রহ করা হয়েছে ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদার নেতৃত্বে গঠিত ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’র সদস্যদের ছবি, ব্যবহৃত অস্ত্র, পোষাক ও বিভিন্ন জিনিসপত্র। জাদুঘরের একটি অংশজুড়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু কর্নার। সেখানে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের চট্টগ্রামের অংশটির পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্মারক/ডকুমেন্ট স্থান পেয়েছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামবাসী মাথা নত করেননি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 2

এছাড়াও জাদুঘরে সংগৃহীত হয়েছে তৎকালীন পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্র ও পোশাক, শহীদ পুলিশ সুপার এম শামসুল হক এর স্মারক হিসেবে ব্যবহৃত র‍্যাংক ব্যাজসহ টিউনিক সেট, স্টিক, ক্যামেরা, কলম, বেল্ট, পোশাক, ক্যাপ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আরআই আকরাম হোসেন এর স্মারক হিসেবে তাঁর ব্যবহৃত রেডিও।

পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, জাদুঘরের উদ্দেশ্য হলো ইতিহাসের স্মারক সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে যথাযথভাবে উপস্থাপন। মাস্টারদা সূর্য সেনের ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহ ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রাম পুলিশের আত্মত্যাগ মূলত চট্টগ্রামের ইতিহাস। এর বিশেষ লক্ষ্য এ অঞ্চলে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার ইতিহাস বিষয়ে সচেতন করে তোলা, যার ফলে তারা মাতৃভূমির জন্য গর্ব ও দেশাত্মবোধে উদ্দীপ্ত হবে এবং উদার অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী হবে।

স্বাধীনতা যুদ্ধে চট্টগ্রামবাসী মাথা নত করেননি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 3

উদ্বোধন শেষে আমন্ত্রিত অতিথিগণ জাদুঘরে সংরক্ষিত  বিভিন্ন সময়ের পুলিশের পোষাক, তৎকালীন সময়ের সরকারি দপ্তরের চিঠি, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ, বীরশ্রেষ্ঠদের বৃত্তান্ত, বর্তমান পুলিশ সদস্যদের পোশাক, দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের ম্যাপ, ফাঁসির মঞ্চ, ভিজুয়াল ডিসপ্লে সংবলিত হল রুম, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের ছবি, তথ্য, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক দেশি বিদেশি বিভিন্ন পত্রিকার নিউজ, বঙ্গবন্ধু কর্নার, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন বই, বঙ্গবন্ধুর ছবি ও তাঁর লেখা বই, মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র ইত্যাদি পরিদর্শন করেন।

এসময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন, ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মো. শামসুল আলম, অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) সানা শামিনুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. আমির জাফর, জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হকসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm