স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য দরকার স্মার্ট শিক্ষার্থী—লায়ন এম কে বাশার

বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এম কে বাশার বলোছেন, “স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে পুরো দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে দরকার স্মার্ট শিক্ষার্থী। আর এসব শিক্ষার্থী তৈরিতে দরকার স্মার্ট শিক্ষক এবং শিক্ষা পদ্ধতি। তেমনটা হলে স্মার্ট বাংলাদেশের সত্যিকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”

বুধবার (২২ মে) চট্টগ্রাম নগরীর হালিশরের বড়পুলস্থ সিটি হল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের এসএসসি কৃতি সংবর্ধনায় এসব কথা বলে তিনি।

তিনি বলেন, “এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী ২ বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় তারা যে পথে চলবে ভবিষ্যৎও সেদিকে যাবে। তাই শিক্ষার্থীদের এখন থেকে বাস্তবমুখী পড়াশোনার মাধ্যম এগিয়ে যেতে হবে।”

স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য দরকার স্মার্ট শিক্ষার্থী—লায়ন এম কে বাশার 1

তিনি বলেন, “আমরা বরাবরের মতো শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে কথা চিন্তা করে আমাদের শিক্ষাপদ্ধতি সাজিয়ে থাকি। আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমেও নিজেদের আত্মনিয়োগের সুযোগ পান। যা তাদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা এবং বাস্তবিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেয়।”

তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করি আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তির সংস্পর্শতা বাড়াতে যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আগে থেকেই প্রস্তুত হবে। যা তাদের বাস্তব জীবনে পজেটিভ ইমপেক্ট ফেলবে।”

লায়ন বাশার বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষার্থীদের উচিত পড়াশোনায় মনযোগী হওয়ার সাথে সাথে মানবিক কাজগুলোও করা। এতে করে যেমন শিক্ষার্থীরা সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে তেমনি দেশের জন্যও অমূল্য সম্পদে পরিণত হবে।”

তিনি বলেন, “অর্থ কুক্ষিগত করে না রেখে নিজের জন্য কিংবা অন্যের জন্য খরচ করুন। এতে করে যেমন আত্মিক শান্তি মিলবে তেমনি সমাজও দেশের উন্নয়ন হবে। আমাদের অনেকে আছি অর্থের কথা চিন্তা করে সন্তানদের ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াতে চাই না। এতে করে সম্ভাবনা থাকা সত্বেও অনো সন্তান পিছিয়ে পড়েন। অভিভাবকদের এসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে।”

স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য দরকার স্মার্ট শিক্ষার্থী—লায়ন এম কে বাশার 2

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, “তোমরা এখনও নবীন। সবে জীবনের চলা শুরু। আর শুরুতে যাতে কোন ভুল না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। আলসেমি করলে পিছিয়ে পড়াদের কাতারে সামিল হতে হবে তাই পরিশ্রমের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যাব না।”

দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষার বিষয় নজরে এনে লায়ন এম কে বাশার বলেন, “প্রতি বছর অসংখ্য শিক্ষার্থী মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করছেন। এর পরে তারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিংবা মেডিকেলে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু শিক্ষার্থীর তুলনায় আসন সংখ্যা কম হওয়ায় অনেকে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে পড়তে পারেন না। আমরা শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি এসব পরামর্শ শিক্ষার্থীদের জীবন চলতে সহায়ক হবে।”

ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ এবং ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের পরিচালক লায়ন মাহাবুব হাসান লিংকন বলেন, সারদেশে মাধ্যমিক এসএসসি এবং সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিচ্ছে বিএসবি ফাউন্ডেশন। সংবর্ধনায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর জন্য থাকছে স্কলারশিপ, মেডেল ও সার্টিফিকেট। দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার ১৫টি পৃথক ভেনুতে ১৮ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত চলছে এই সংবর্ধনা। সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীরা এসএসসি পাসের পর দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি, ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডেশন প্রোগ্রামে ভর্তি, বিদেশে স্কুল-কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির তথ্য সম্পর্কে জানতে পারছেন।

প্রসঙ্গত, ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ (বিএসবি) ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শান্তির জন্য শিক্ষা, আত্মনির্ভরশীলতা ও বৈশ্বিক সুযোগ- এ শ্লোগান নিয়ে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সুশিক্ষায় শিক্ষিতকরণের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে দেশের পাঁচটি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৫টি ক্যাম্পাসে ক্যামব্রিয়ান কলেজের পাঠদান অব্যাহত আছে।

২০১৪ সালে চট্টগ্রামে ক্যামব্রিয়ারে পথ চলা শুরু। রাজধানী ঢাকার মতো চট্টগ্রামের হালিশহরেও রয়েছে ক্যামব্রিয়ানের ডিজিটাল ক্যাম্পাস। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম ক্যামব্রিয়ান কলেজ ফলাফলের দিক থেকে এই বোর্ডের অন্যতম শীর্ষ কলেজ।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।