হাটহাজারীতে চেয়ারম্যানের দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী বাগান

0

হাটহাজারী উপজেলার ৪নং গুমানমর্দন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান ও প্রান্তিক চাষীদের করা দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী ফুলের বাগান নজর কাড়ছে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের। এ বাগান দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ভীড় করছে সৌন্দর্য্য পিপাসুরা।
চট্টগ্রামের ছেলে নেয়ামত উল্লাহ চট্টগ্রাম খবরকে বলেন, ‘আমি খাতুনগঞ্জ থেকে সূর্যমুখীর বাগান দেখতে এসেছি। সবুজের মাঝে হলুদের দোলা আমার হৃদয় ছুঁয়েছে। এ ধরনের বাগান চট্টগ্রামে আরো হওয়া দরকার।’

চট্টগ্রামের মেয়ে সাইফা ইসলাম চট্টগ্রাম খবরকে বলেন, ‘এমন অসাধারণ বাগান দেখতে আমি চট্টগ্রামের অক্সিজেন থেকে এসেছি। এ বাগান দেখে আমার গাঁইতে ইচ্ছে করছে, বলে গাইলেন, ভ্রমর কইও গিয়া, শ্রীকৃষ্ণের বিচ্ছেদের অনলে আমার অঙ্গ যায় জ্বলিয়া রে।’

এভাবেই চট্টগ্রামবাসী তাদের মুগ্ধতা প্রকাশ করছে হাটহাজারী উপজেলার ৪নং গুমানমর্দন ইউনিয়ন পরিষদের সূর্যমুখী ফুলের এই বাগানের প্রতি।

হাটহাজারীতে চেয়ারম্যানের দৃষ্টিনন্দন সূর্যমুখী বাগান 1

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সূর্যমুখীর এই বাগানে সবুজের মাঝে দুলছে হলুদ ফুলের সমারোহ। বাগানের কাছে গেলেই শোনা যায় মধু পোকার গুঞ্জনের শব্দ। এখানে ১৬ শ থেকে ১৮ শ সূর্যমুখীর গাছ রয়েছে। রোদের ঝলকানিতে ও বাতাসের নরম আভায় ফুলের বাগানে প্রতি নিয়ত নতুন দৃশ্যে খেলা করে দৃষ্টিজুড়ে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় ফুল গাছগুলো রোপন করা হয়। এ বাগানটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচর্যা করেন উক্ত ইউনিয়নের চৌকিদাররা। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত এই বাগানের যত্ন নিচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিব সহ উত্তর ইউনিয়নের প্রায় সকল সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যরা। সূর্যমুখীর গাছগুলোতে দেড় মাসের মাথায় ফুল আসতে শুরু করে। দুই মাস পূণ হওয়ার আগেই ফুলে ফুলে পুরো বাগান সজ্জিত হয়ে যায়।

এই বাগানের উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন,‘আমি ছোটবেলা থেকেই কৃষি কাজের সাথে জড়িত ছিলাম। কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সীমিত জায়গায় বেশি পরিমাণে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কৃষক এই বিষয়ে আবগত নয়। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের যথেষ্ট পরিমাণ জায়গা থাকায় আমি চিন্তা করেছি সেই জায়গাটি ব্যবহার করে কৃষকদের অনুপ্রেরণার্থে কিছু একটা করব। সেই চিন্তা থেকেই এই কার্যক্রমটি হাতে নেই। পরিষদের সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় বাগানটি ফুলে ফুলে সজ্জিত হয়েছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm