১৩৬ বছরে পা রাখল চট্টগ্রাম বন্দর

0

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিক ব্যবস্থাপনায় ১৩৫ বছর পূর্ণ করে ১৩৬ এ পা রেখেছে আজ সোমবার। দিনটিকে স্মরণীয় করতে নানা আয়োজনে পালন করা হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিবস। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, কর্ণফুলী নদীর মোহনায় গড়ে উঠা চট্টগ্রাম বন্দর প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরোনো। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি পরিচালিত হয় এই বন্দর দিয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করোনার ঢেউ সামলে কন্টেইনারবাহী পণ্য উঠানামায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখে বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দর দিবস উপলক্ষে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিষ্ঠা হতে এ যাবৎকালের মধ্যে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ কন্টেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডেলিং করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২১ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার টিইইউএস। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। জেনারেল কার্গো ওঠানামা হয়েছে ১১ কোটি ৬৬ লাখ মেট্রিকটন। এই খাতে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১৩ শতাংশ। জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪ হাজার ২০৯টি। জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১৩ শতাংশ। কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের এই পরিসংখ্যান চট্টগ্রাম বন্দরের ৩০ বছর মেয়াদি প্রক্ষেপণকে ছাড়িয়ে গেছে। ক্রমবর্ধমান হ্যান্ডেলিং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ যার প্রত্যক্ষ ফলাফল এই পরিসংখ্যান। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের কার্যক্রমের সাথে সহায়ক অন্যান্য সংস্থা, এজেন্সি যেমন শুল্ক বিভাগ, ব্যাংক, শিপিং এজেন্টগণ আন্তঃসমন্বয়ের মাধ্যমে সপ্তাহে প্রতিদিন চব্বিশ ঘণ্টা কার্যক্রম সম্পাদন করছে।

তিনি বলেন ‘বছরে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের লক্ষ্যে নির্মাণাধীন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) নির্মাণ কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে ১ হাজার ২২৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখানে ৬০০ মিটার জেটিতে একসঙ্গে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের তিনটি কনটেইনারবাহী জাহাজ এবং ২২০ মিটার দৈর্ঘ্যের ডলফিন জেটিতে একটি তেলবাহী জাহাজ ভিড়ানো যাবে।

বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে জানিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান জানান, গত এক দশকে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৫ লক্ষ ৮০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে কনটেইনার ধারণ ক্ষমতা ৫৫ হাজার এ উন্নিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং এলাকায় ওভারফ্লো কন্টেইনার ইয়ার্ড এবং সদরঘাট এলাকায় একটি ৭৫ মিটার লাইটারেজ জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে ৪০০ মিটার লাইটারেজ জেটি ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল করা হয়েছে। এতে লাইটার জাহাজগুলোর দ্রুততম কম সময়ে খালাস করায় লাইটার জাহাজের ওয়েটিং টাইম হ্রাস পেয়েছে।

‘চট্টগ্রাম বন্দরের পোর্ট নর্টিক্যাল মাইল ৭ থেকে ৫০ করা হয়েছে। ফলে বন্দরের জলসীমা ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে মাদার ভেসেলগুলো রিয়েল টাইম টাইডাল ইনফরমেশন সিস্টেমে সমুদ্র থেকে নিরাপদে বহির্নোঙ্গরে যাতায়াত করতে পারছে, যা মেরিটাইম বিশ্বে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তাছাড়া পোর্ট লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়াতে ২ টি টাগবোট কান্ডারি-৬ ও ১২, ২ টি মুরিং লঞ্চ, ২ টি সাইট স্ক্যান সোনার, ২ টি ইকো সাউন্ডার ও ১ টি সি-গোয়িং লো ফ্রিবোর্ড হার্বার টাগ বোট (২০০০বিএইচপি) সংগ্রহ করা হয়েছে।’ বলেন বন্দর চেয়ারম্যান।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আওয়ামী লীগ সরকার এ বন্দরকে একটি বিশ্বমানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। স্বয়ংক্রিয় কন্টেনার অপারেশন নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সিটিএমএস এবং বন্দরে নিরাপদে জাহাজ যাতায়াত ও বহির্নোঙর অবস্থানকালীন জাহাজসমূহকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার জন্য আধুনিক ভিটিএমআইএস চালু রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে।

এমএফ

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm