২২ দিনেও তৈরী হয়নি ১০ দিনে হওয়ার অস্থায়ী জেটি

0

কুমিরা -গুপ্তছড়া নৌ রুটে ভেঙ্গে যাওয়া জেটির সমস্যা সমাধানে দশ দিনে অস্থায়ী জেটি নির্মানের জন্য বিআইডব্লিউটিএ কতৃপক্ষ প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা বাজেট নির্ধারন করে।

গত ১২ ই মে জেটি ভেঙ্গে যাত্রী উঠানামা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে নির্মান কাজ শুরু করলেও বাইশ দিনেও তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছেনা কাজের।

জোয়ারের সময় যাত্রীরা কিছুটা সহজে উঠতে পারলেও ভাটার সময় উঠানামায় নামতে হয় এক বুক পানিতে, পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে।

কাজের ধীরগতির বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহি প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি চট্টগ্রাম খবরকে বলেন, কুমিরা অংশে কিনারায় লোহার কাঠামো পিলার বসানোর কাজ শেষ, এখন বীম (অর্থ্যাৎ পিলার একটার সাথে একটাকে যুক্ত করা হবে) বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রচন্ড ঢেউ আছড়ে পড়ছে, গত তিন দিন ধরে আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। কাল বা পরশু থেকে পুরোদমে কাজ চলবে।

আগামী ৭ দিনে কাজ শেষ হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি খুব দ্রুত কাজটি শেষ করতে কিন্তু জোয়ারের তীব্রতা ও আবহাওয়ার কাছে আমরা অসহায়। যত দ্রুত সম্ভব কাজটি শেষ করব।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রায় গলা সমান পানিতে নেমে উঠানামা করতে হচ্ছে লাল বোটে, আবার সেখান থেকে শীপ বা সার্ভিস বোটে।

সন্দ্বীপ থেকে কুমিরা আসা আলী হাসান মিন্টু নামের এক যাত্রী দু:খের সাথে বলেন আমাদের এ কষ্টের শেষ কোথায়! আমি ভিজা শরীরে এখন হালিশহরে যাব, জামা কাপড় পরিবর্তন করার মত যেগুলো ছিল ব্যাগের মধ্যে ঢেউয়ের পানি লেগে সেগুলো ভিজে গেছে। ১০ দিনে জেটি বানাবে বললেও ২২ দিন পার হলেও জেটির কাজ আশানুরুপ হয়নি বলেন এ যাত্রী!

এদিকে গত ২ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অনুষ্ঠিত সভায় সন্দ্বীপ উপজেলার কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের যাত্রী পারাপারের সমস্যা নিয়ে সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার চিঠির উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং যাত্রীদের উঠানামার দুর্ভোগের ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বৈঠকে কুমিরা-গুপ্তছড়া ফেরীঘাটে যাত্রী ওঠানামার সুবিধার্থে ১০ লাখ ঘনমিটার খাল ড্রেজিং সহ পল্টুন, ভাসমান দুটি সি-ট্রাক চালু, নতুন জেটি ও হোভারক্রাফট চালুর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিন্ধান্ত হয়।

এদিকে উঠানামা ব্যবস্থায় ভোগান্তির বিষয়ে সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা চট্টগ্রাম খবরকে বলেন, আমি আশা করি আগামী ৩ মাসের মধ্যে ড্রেজিং কাজ শুরু হতে পারে। এরপর ভাসমান পল্টুন বসালেই যাত্রী উঠানামার ভোগান্তি শেষ হবে। আমি স্বপ্ন দেখি এ সরকার সন্দ্বীপের নৌ দুর্ভোগ নিরসন করবে, যেভাবে অন্ধকার সন্দ্বীপকে আলোকিত করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm