পাহাড়ের কোলে সবুজ প্রকৃতির ভেতর অবস্থিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) আজ ৬০ বছরের পথচলায় প্রবেশ করেছে। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর যাত্রা শুরু করা এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
চবি বর্তমানে ৯টি অনুষদ, ৬টি ইনস্টিটিউট ও ৫৪টির বেশি বিভাগের মাধ্যমে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী ও ৯০৭ জন শিক্ষকের সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ক্যাম্পাসে রয়েছে আধুনিক গবেষণাগার, ডিজিটাল ক্লাসরুম, উন্নত লাইব্রেরি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি দেশের অন্যতম বৃহৎ, যেখানে লক্ষাধিক বই, জার্নাল ও ডিজিটাল রিসোর্স সংরক্ষিত। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম শাটল ট্রেন ৬০ বছর ধরে শহর–ক্যাম্পাস যোগাযোগের প্রধান সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।
চবি জন্ম দিয়েছে অনেক গুণীজন। নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির শিক্ষাবিদ, গবেষক ও মনীষী এখান থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেছেন। গ্রামীণ ব্যাংকের নোবেল শান্তি পুরস্কার (২০০৬) চবির গৌরবময় ইতিহাসের অংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রজন্মের সরলতা থেকে আজকের আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা—সবই চবির সময়ের পালাবদল ও ধারাবাহিক উন্নয়নের সাক্ষ্য দেয়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা আধুনিক সুবিধা ভোগ করলেও শাটল ট্রেনের হুইসেল, ঝুপড়ির আড্ডা ও পাহাড়ের সৌন্দর্য চবির অতীতের স্মৃতি জীবিত রাখছে।
৬০ বছরে চবির এই যাত্রা শুধু প্রতিষ্ঠানের বয়স নয়, বরং কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি, হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন এবং সময়ের পরিবর্তনের গল্পও বয়ে নিয়ে চলেছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।