নোয়াখালীর ভাসানচরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জন্য রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা জ্বালানির চাহিদা মেটাতে উপকূলীয় বন থেকে লাকড়ি সংগ্রহে ঝুঁকছেন। এতে একদিকে দ্রুত বন উজাড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবর্তন কমিশনের সূত্র জানায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ৩৭ হাজার ২৬০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব পরিবারের জন্য প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ হাজার গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হলেও আগে একটি এনজিওর মাধ্যমে তিন হাজার সিলিন্ডার সরবরাহ করা হতো, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল।
সূত্র মতে, ইসলামি রিলিফের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ কর্মসূচি চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চালু থাকার কথা থাকলেও জানুয়ারি থেকেই তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আগে থেকেই যারা সীমিত আকারে বন থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করতেন, এখন প্রায় সবাই কাঠের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
এর ফলে ভাসানচরের উপকূলীয় বনে ব্যাপক হারে গাছ কাটা পড়ছে। বন উজাড় হলে দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ঝড়–জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কমিশন। পাশাপাশি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় লাকড়ি ব্যবহার করে রান্না করায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এ পরিস্থিতিতে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করতে নতুন দাতা সংস্থার সহায়তা চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবর্তন কমিশন।
এ বিষয়ে ইসলামি রিলিফের বাংলাদেশ অফিস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন তহবিলে কাটছাঁট হওয়ায় তাদের অর্থায়ন সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে গ্যাস সরবরাহ কর্মসূচি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে নতুন দাতা পাওয়া গেলে মার্চ থেকে আবারও গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
এদিকে দ্রুত বিকল্প জ্বালানি নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশ ও নিরাপত্তা—উভয় দিক থেকেই ভাসানচর বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।