চট্টগ্রামের দোহাজারীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জান। এ ঘটনায় আরও একজন আহত।হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দোহাজারী সদরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বান্দরবান থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী পূরবী পরিবহনের একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ব ১১-৫৯৬৩) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দোহাজারী অংশে একটি অটোরিকশাকে।পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এতে নিহতরা হলেন—পাঠশালা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ওয়াকার উদ্দীন আদিল (১৩) ও তার বোন নবম শ্রেণীর ছাতরি মোছাম্মৎ রিজভী আকতার। তারা দুইজন জামিজুরী গ্রামের দোহাজারী কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দীনের সন্তান। নিহত অপরজন।অটোরিকশাচালক জামিজুরী গ্রামের মৃত আমানত উল্লাহর ছেলে রুহুল আমিন (৪৫)।
এতে আহত ব্যক্তি হলেন, জামিরজুরী গ্রামের প্রবাসী কাজী আবদুল্লাহ বড় মেয়ে মেয়ে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী তুসিন আকতার। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে এমন দুর্ঘটনার প্রতিবাদে ২ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এ সময় উত্তেজিত জনতা হকার উচ্ছেদ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণসহ নানা দাবি তুলে ধরেন ।পরে সেনাবাহিনীর ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ সময় চন্দনাইশ উপজেলার এসিল্যান্ড ও দোহাজারী পৌরসভার প্রশাসক ঘটনাস্থলে যান এবং নিহতদের পরিবারের সাথে দেখা করেন। তারা দাফন কাজ সম্পন্নের জন্য নিহতের প্রতি জনের জন্য ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে সব রকম প্রশাসনিক সহযোগিতার প্রদানের আশ্বাস দেন।তবে মামলার বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।
স্থানীয় জনসাধারণ বলছেন, বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ দোহাজারী সড়ক ব্যাবস্থা। আর কত প্রাণ গেলে সড়কে শৃ্ঙ্খলা ফিরে আসবে কারো জানা নাই। স্থানীয় প্রশাসন এবং সড়ক বিভাগ এই বিষয়ে নির্বিকার। আর কত মা-বাবা বুক খালি হলে, আর কত ৬ মেয়ে তার আদরের দিনমজুর পরিশ্রমী বাবাকে হারালে কিংবা একজন নারীকে ৬ মেয়সহ বিধবা করলে এই দেশে নিরাপদ সড়ক আইন চালু হবে তা সাধারণ মানুষের প্রশ্ন!



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।