রাউজানে খুনিদের গ্রেপ্তারে জট খুলল পুলিশ, অস্ত্র ভান্ডার উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম হত্যা মামলার জট খুলতে জেলা পুলিশ বড় সফলতা অর্জন করেছে। ধারাবাহিক অভিযানে ইতোমধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, একটি মোটরসাইকেল, গাঁজা, ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর মদুনাঘাট ব্রিজের কাছে সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী হাকিমের গাড়িতে গুলি চালায়। ঘটনায় হাকিম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। জেলা গোয়েন্দা শাখা ও হাটহাজারী থানার পুলিশ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে পুরো চক্র শনাক্তে নামে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথম গ্রেপ্তার হন মো. আব্দুল্লাহ খোকন, যার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরবর্তীতে ধরা পড়ে মারুফ ও সাকলাইন হোসেন। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় একনলা বন্দুক, এলজি ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল।

গত ৯ নভেম্বর চৌধুরীহাটের আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চারটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার, চায়না রাইফেল, শটগান, ৮৫ রাউন্ড গুলি, দুইটি রামদা, একটি রকেট ফ্লেয়ার, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসময় সাকিব ও শাহেদ নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, হত্যাকাণ্ডটি বালুমহল নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়। ইতোমধ্যে মামলার মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্টদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং নোয়াপাড়া ও আশপাশে চেকপোস্ট ও বিশেষ টহল দিয়ে পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তে নেমে পুলিশ ‘চাঞ্চল্যকর’ বেশকিছু তথ্য ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকের নাম পেয়েছে। তবে ‘তদন্তের স্বার্থে’ সেসব এখনই প্রকাশ করছেন না তারা। ছয়টি গ্রুপের পাশাপাশি আরও দুয়েকটি গ্রুপও ‘টার্গেট কিলিংয়ে’ যুক্ত বলে এ কর্মকর্তার ভাষ্য।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।