চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলীনগরে যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে ব্যবহৃত পানির লাইনে ‘বিষাক্ত তরল’ মিশিয়ে অন্তর্ঘাতের চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার পর পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
রোববার সকালে আলীনগর স্কুলে স্থাপিত যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা সদস্যরা পানি ব্যবহার করতে গিয়ে অস্বাভাবিক গন্ধ পান। কয়েকজন সদস্য ওই পানি দিয়ে কুলকুচি ও মুখ ধোয়ার পর পেটে অস্বস্তি ও চোখে জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক জানান, পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, যারা ওই পানি ব্যবহার করেছিলেন তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।
তিনি আরও জানান, আলীনগর এলাকায় প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ পানির সরবরাহ লাইনের একটি অংশ, যেখান থেকে আলীনগর স্কুলে পানি সরবরাহ করা হয়, সেটি কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই স্থানে কোনো বিষাক্ত তরল জাতীয় পদার্থ ঢেলে দেওয়া হয়েছিল, যা পানির সঙ্গে মিশে স্কুলের ট্যাংকে পৌঁছে যায়।
ঘটনার পরপরই ক্যাম্পে থাকা সদস্যরা পানির ট্যাংক পরীক্ষা করে তীব্র দুর্গন্ধ ও পানিতে ফেনা দেখতে পান। এরপর সঙ্গে সঙ্গে সব পানির কল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে স্কুলের বাথরুমগুলোও সাময়িকভাবে ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়। তবে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পানির পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চে জঙ্গল ছলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় বৃহৎ যৌথ অভিযানের পর আলীনগর স্কুলে পুলিশ, এপিবিএন, আরআরএফ ও র্যাব সদস্যদের সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এর আগে মে মাসে নির্মাণাধীন ক্যাম্পেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে সর্বশেষ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


