কাঞ্চননগরে কবরস্থানের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, নিষেধাজ্ঞা জারি

ফটিকছড়ি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে তিনশ’ বছরের পুরানো জান্নাতুল ফেরদৌস নামে একটি কবরস্থানের জায়গা দখল ও টিলা কেটে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মহিনউদ্দিন নামের এক জনের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে ফটিকছড়ি সদর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজী মহিনউদ্দিনকে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোট ১৮৬ শতক কবরস্থানের জায়গার মধ্যে তিনি প্রায় ১৮ শতক জমি দখল নেন। প্রথমে টিনশেড দিয়ে ঘেরা তৈরি করেন। পরে সেখানে পাকা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেন। এরপর ওই টিলা শ্রেণীর জায়গায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এলাকাবাসীর দাবি, ওই টিলায় রয়েছে প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো কবরস্থান। টিলা কাটার কাজ শুরু করার আগে চারদিকে উঁচু দেয়াল তুলে দেন মহিনউদ্দিন, যাতে বাইরে থেকে কেউ ভেতরে কী হচ্ছে তা বুঝতে না পারে। তবে দিন-রাত সমানতালে টিলা কাটতে দেখে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।

স্থনীয়রা উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানালে গত শুক্রবার রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিলা কাটার প্রমাণ পায়। এ সময় একটি এস্কেভেটরসহ চালককে আটক করা হয়। তবে পরদিন শনিবার আটক চালককে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

ফটিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুজিবুল হক বলেন, মুচলেকা নিয়ে এস্কেভেটরের মালিকের জিম্মায় আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহরম আলী জানান, প্রতিবছর ঈদসহ বিশেষ দিনগুলোতে আমরা এই কবরস্থানে জিয়ারত করতে ও পূর্বপুরুষদের স্মরণ করতে টিলায় আসতাম। কিন্তু এখন মহিউদ্দিন কবর কেটে তা নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে।

জসিম নামের অন্য এক বাসিন্দা বলেন, এই টিলা আরএস খতিয়ানে কবরস্থান হিসেবে লিপিবদ্ধ রয়েছে, যেখানে সর্বসাধারণের ব্যবহারের উল্লেখ আছে। কিন্তু মহিউদ্দিন জোরপূর্বক জায়গাটি দখল করে এখন স্থাপনা নির্মাণ করছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও আদালতের তোয়াক্কা না করে টিলা কেটে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন টিলা কাটার বিষয়টি স্বীকার করলেও কোনোরকম মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কবরস্থান দখল করে টিলা কাটার অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে সেখানে আদালতের নির্দেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। আমরা সেখানে কোনো রকম নির্মাণ কার্যক্রম চালাতে নিষেধ করেছি।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।