গাছে গাছে ঝুলছে মিষ্টি লিচু

রাউজানে লিচুর বাম্পার ফলন

চারপাশে পাহাড়ি প্রকৃতি। সবুজ পাহাড়ের একটু পর পর দেখা মিলছে লালচে রঙের থোকা থোকা লিচু। কিছু গাছে এখনও সবুজ প্রকৃতির লিচু আছে। তবে বেশিরভাগ লিচুই পাকা। আর এই লিচু ভাঙতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তীব্র গরমের মাঝেও বেশ উৎসাহ নিয়ে লিচু তোলার দৃশ্যই বলছে কতটা খুশি তারা! বলছিলাম চট্টগ্রামের রাউজানের জগৎপুর আশ্রম এলাকায় দেশিয় জাতের লিচু নিয়ে চাষিদের ব্যস্ততার কথা।

উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের জগৎপূর আশ্রমে এলাকার পাহাড়ে এ বছর দেশি লিচুর ফলন হয়েছে ভালো। স্থানীয় কৃষকরা প্রতি পিচ লিচু ১ থেকে দেড় টাকা বিক্রি করলেও বাজারে এর দাম দ্বিগুণ। বাগানগুলোতে লিচু বিক্রয়ের উপযোগী হওয়ায় মৌসুমের শুরুতে গাছ থেকে লিচু সংগ্রহ করে বাজারে পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার বাগান মালিকরা। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় থেকে লিচু ক্রয়ের জন্য এখানে আসছেন ব্যাপারীরা।

বাগান মালিকরা জানান, লিচুর পাঁকা রং আসায় বাগান থেকে লিচু তোলা শুরু করছেন তারা। ব্যাপারীরা এসে এখান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রাউজানের এ লিচু স্থানীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম শহরে। বাগান থেকে পাইকারি দরে ১হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে ১২’শ টাকা থেকে ১৫’শ টাকা পর্যন্ত। এখানকার বাগানের লিচু আকাড়ে বড় আর সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে চাহিদাও রয়েছে। অনেকেই সরাসরি বাগান থেকে এসেও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। জগৎপূর আশ্রম এলাকার বাগানের লিচু গুলো আকারে বড় আর সুস্বাদ। এর ফলে বাজারে এই লিচুর বেশ চাহিদাও রয়েছে।

জগৎপূর আশ্রম এলাকার বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় মালিকদের কাছ থেকে বাগান গুলো কিনে নিয়েছেন ব্যাপারীরা। এছাড়াও কয়েকটি বাগানে দেখা গেছে বাগান মালিকেরা নিজেরাই শ্রমিক দিয়ে লিচু গাছ থেকে নামানো শুরু করছে। সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এই পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৫-৬টি বড় বড় লিচুর বাগান রয়েছে। সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ লিচুর ফলন বাজারে বিক্রি করতে গাছ থেকে নামানো হচ্ছে। এই বাগানগুলো থেকে প্রায় ১০লাখ টাকার কাছাকাছি লিচু বিক্রি হয়ে থাকে বলে জানান চাষিরা।

মো.আকবর হোসেন নামে একজন চাষি জানান, আমি এখানে দীর্ঘ অনেক বছর ধরে বসবাস করছি। মূলত এখানে কৃষি কাজ করে জীবন নির্বাহ করি আমরা। এই লিচু বাগানটি আমি একজন বাগান মালিক থেকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছি। ফলন ভালো হয়েছে। তবে বানর আর পাখি লিচুর বেশি ক্ষতি করছে। এরপরও বাজার মূল্য ভালো হওয়া লাভের আশা করছি।

এসকান্দর নামে একজন বলেন, মূলত জগৎপূর আশ্রম দেখতে এসেছি, এখানে এসে দেখি বিশাল বিশাল লিচুর বাগান। ফরমালিন মুক্ত একদম নির্ভেজাল লিচু কিনি নিয়েছি। তিনি জানান লিচুর স্বাদ অনেক মিষ্টি। ক্রেতা-বিক্রতা ও বাগান মালিকের তথ্য মতে, বাগান থেকে প্রতি ১০০ লিচু পাইকারদের কাছে বিক্রি হয়।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।