১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৮ বছর পূর্ণ হলো। চুক্তির লক্ষ্য ছিল পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি, সশস্ত্র সংঘাতের অবসান, ভূমি ও নাগরিক অধিকারে সমতা এবং পাহাড়ি–বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি সৃষ্টি।
কিন্তু ২৮ বছর পরও পাহাড়ের বাস্তবতা বলছে, শান্তির স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকরা অভিযোগ করছেন—হাজারো হত্যার বিচার হয়নি, বরং কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও দেওয়া হয়েছে। জেএসএসের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির ৭২টির মধ্যে মাত্র ৩৪টি ধারার বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ, ১৫টি আংশিক, ৯টি প্রক্রিয়াধীন এবং বাকি উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর হয়নি।
সংঘাত বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, সীমান্তপথে আধুনিক অস্ত্র প্রবেশ অব্যাহত এবং সক্রিয় সশস্ত্র সংগঠন যেমন—জেএসএস (সন্তু), জেএসএস (এমএন লারমা), ইউপিডিএফ, মগ লিবারেশন পার্টি কার্যক্রম চালাচ্ছে। চুক্তির পরও পাহাড়ে হত্যাকাণ্ড, গুম, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র আধিপত্য বেড়েছে।
স্থানীয় নেতা ও সংগঠনগুলো বলছেন—চুক্তি পুনর্বিবেচনা, ভূমি কমিশন পুনর্গঠন, সব সশস্ত্র সংগঠন নিষিদ্ধ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বপক্ষীয় রাজনৈতিক সাহস, ন্যায়ভিত্তিক ভূমি সমাধান এবং সম্প্রীতির নতুন মানসিকতা অপরিহার্য।
উন্নয়নের কিছু দিক যেমন সড়ক-যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন বৃদ্ধি হলেও পাহাড় আজো অস্থিতিশীলতা, দ্বন্দ্ব ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।