গ্রীষ্মের খরতাপে প্রকৃতি যখন রুক্ষ, তখন লাল কৃষ্ণচূড়া, বেগুনি জারুল আর সোনালি সোনালুর বর্ণিল ছোঁয়ায় সেজে উঠেছে সারাদেশ। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চল খাগড়াছড়ির পাহাড়ি পথ ও প্রকৃতিতে এই ফুলগুলো দারুণ সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে।
পাহাড়ঘেরা খাগড়াছড়ির মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তর আর প্রাণ-প্রকৃতি যেন অপরূপ সৌন্দর্য্যে সেজেছে। জেলা শহরসহ দীঘিনালা ও পানছড়ি বিভিন্ন এলাকা এখন প্রকৃতির রঙের উৎসব চলছে। সড়কের দুই পাশে ফুটে থাকা নানান রঙের ফুল মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে পথচারী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের মাঝে। সড়কের দু’ধারে কৃষ্ণচূড়া, সোনালু ও জারুল ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য পাহাড়ের এ জেলাকে পরিণত করেছে এক প্রাকৃতিক ফুলবাগানে।
দীঘিনালা উপজেলা সদরে প্রবেশ দ্বারেই চোখে পড়ে সোনালু ফুলের সোনালি আভা। ঝুলন্ত থোকা থোকা হলুদ ফুল বাতাসে দোল খেলে যেন পথচারীদের উষ্ণ অভ্যর্থনার জানান দেয়। অন্যদিকে কৃষ্ণচূড়ার লাল-কমলা রঙে রাঙা হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গন সহ সরকারি বেসরকারি অফিস ও সড়ক। কোথাও কোথাও পুরো রাস্তা যেন কৃষ্ণচূড়ার ফুলের চাদরে ঢেকে গেছে। রাস্তার দুই পাশের গাছগুলো ছায়ার মতো মাথার ওপর বিস্তৃত হয়ে তৈরি করেছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
দীঘিনালা-কবাখালী সড়কেও এখন সোনালু ফুলের রাজত্ব। কবাখালী বাজার এলাকায় সারি সারি সোনালু গাছ ফুলে ভরে উঠেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, হলুদ রঙের কোনো প্রাকৃতিক অলংকারে সাজানো হয়েছে পুরো সড়ক। যেন পাহাড়ে হলুদ গালিচা বিছিয়েছে কোনো এক আগন্তুক।
এদিকে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের পথে দেখা মিলছে বেগুনি রঙের জারুল ফুলের সৌন্দর্য। পাহাড়ি পথ আর জারুলের মায়াবী রূপ মিলিয়ে এলাকাটি হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
স্থানীয়রা বলছেন, এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য শুধু পরিবেশকে নয়, মানুষের মনকেও প্রফুল্ল করে তোলে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন সড়কে ভিড় করছেন। অনেকে আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি তুলে শেয়ার করছেন দীঘিনালার এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। স্থানীয় যুবক মারুফ হোসেন বলেন, রাস্তার দুই পাশের ফুলগুলো আমাদের সত্যিই মুগ্ধ করে। প্রতিটি সড়কে এমন ফুলের সমারোহ থাকলে পরিবেশ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।
স্কুলশিক্ষার্থী মাইকেল ত্রিপুরা বলেন, আমি প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় এই ফুলগুলো দেখি। খুব ভালো লাগে। আমি চাই রাস্তার দুই পাশে সবসময় এমন ফুলের গাছ থাকুক।
তরুণ সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী জাকির হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক ফুলের এমন দৃশ্য যে কাউকে বিমোহিত করবে। বিশেষ করে পাহাড়ের এমন চিরচেনা রূপ কেউ না দেখলে বোঝার সুযোগ নেই যে ফুলের সৌন্দর্য কতটুকু। তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান, যেন খাগড়াছড়ির প্রতিটি সড়ক ও জনপদ এমন সৌন্দর্যবর্ধন গাছ ও ফুল রোপণ করা হয়।
তবে পরিকল্পিত ছায়াবৃক্ষ ও ফুল গাছ রোপণ করা হলে পাহাড়ে ভবিষ্যতে পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়ক ও পাহাড়ের ঢালে এই ফুলগুলো সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়েছে। ফুলগুলোর সৌন্দর্য শুধু পথিকের ক্লান্তিই দূর করে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


