হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবেন এমপি। এমন খবরে তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সরিয়ে বেডে শুয়ে পড়েন ২৩ নেতাকর্মী। পরিদর্শন শেষে এমপি চলে যাওয়ার পরপরই ভর্তি হওয়া ওইসব ব্যক্তিরাই নিজেরাই চলে যান বাড়িতে। এমনই এক কাণ্ড ঘটেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাসপাতালে সরেজমিনে গেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে যেকোন লোক রোগী আসলে আমাদের চিকিৎসা দিতে হবে। গত সোমবার সকালে ২৩ জন রোগী নির্বাচনকালীন সময়ে আহত নেতাকর্মীরা পুনরায় চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়। দুপুরে এমপি সাহেব হাসপাতালে এসে তাদের দেখে যান। বিকেলে ভর্তি হওয়া রোগিরা হাসপাতাল থেকে চলে যান।
জানা গেছে, গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। এর আগে, এসব ব্যক্তিরা হাসপাতালে এসে রোগিদের বেডে শুয়ে পড়েন। পরিদর্শনকালে এমপির সাথে শতাধিক নেতাকর্মীর ভীড়ে হাসপাতালে পরিস্থিতিও বেসামাল হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শ্বাসকষ্ট ও আহত কিছু রোগি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। তবে হাসপাতালের অধিকাংশ বেড খালি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত সোমবার হাসপাতালে ৭৮ জন রোগি থাকলেও মঙ্গলবার সকালে অর্ধেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন। সোমবার বেলা ১১ টার দিকে ২৩ জন ব্যক্তি জরুরি বিভাগে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে উপজেলায় বারশত দুধকুমড়া গ্রামের আলী হোসেন (৩৯), মঈন উদ্দিন (৩২), নাছির খান (২৭), পরৈকোড়া ইউনিয়নের নেজাম উদ্দিন (৪২), উত্তম তালুকদার (৫০) রয়েছে। এসব রোগী বিকালে হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী বৃদ্ধ আলমগীর (৬৫) বলেন, এক সপ্তাহ ধরে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি। সোমবার ৩০-৪০ মানুষ এসে আমাদের সব রোগীকে বের করে দিয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে পড়ে তারা। এ সময় আমরা অসুস্থ রোগীরা বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বাহিরা বসে থাকি। পরে এমপি সাহেব চলে গেলে তারাও বের হয়ে যাই। তারপর আমরা হাসপাতালে ঢুকে বেডে যাই। এমন কাণ্ড বাপের জন্মেও দেখি নাই।
মোহাম্মদ হোসেন (৫০) নামের আরেক রোগী বলেন, ৩০ থেকে ৪০ জন লোক এসে আমাদের জানান এখানে ভিআইপি কিছু রোগী আসবে, আপনাদের নেমে যেতে হবে। তারপর তারা আমাদের বেডে শুয়ে পড়ে। পরে এমপি সাহেব ও তার ছেলে বেডে থাকা ব্যক্তিদের ২ হাজার টাকা করে দিয়ে চলে যান। তারা যতক্ষণ হাসপাতালে ছিলো, ততক্ষণ আমরা বাইরে ছিলাম। তিনি কোনো রোগীর সঙ্গে কথাও বলেননি।
এ সময় হাসপাতালে থাকা রোগী ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম (এমপি) বলেছেন, নৈতিকতার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমার নেতাকর্মীরা আমার এবং বিএনপি-এর জন্য নির্ভীকভাবে কাজ করে ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবসময় আমি তাদের পাশে থাকব।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী, এমপিপুত্র সাওয়াজ নিজাম সনি, বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন, শফিউল আলম, জাকারিয়া চৌধুরী জকু প্রমূখ।
উল্লাখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে সংগঠিত ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আহত হয়। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অনেকে সুস্থ হয়ে উঠে। নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম বিপুল ভোটে জয় লাভ করে শপথ নিতে ঢাকা চলে যায়। গত রোববার তিনি ঢাকা থেকে ফেরে সোমবার দুপুরে আহতদের দেখতে হাসপাতালে আসার কর্মসূচি দেন। এই খবরে আহত নেতাকর্মীরাই হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।