কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখ কলাতলী এলাকায় সদ্য নির্মিত একটি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের চার ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে, বুধবার ১০টার দিকে এন আলম ফিলিং স্টেশন নামের সদ্য নির্মিত পাম্পটিতে আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণের আগুনে পাম্পের আশেপাশের প্রায় ৫০টি বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের অন্তত নয়টি ইউনিটের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত পৌনে দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুনে বেশ কিছু ঘরবাড়ি এবং একটি গ্যারেজে রাখা কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ ১০ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দগ্ধ নয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখে। পুলিশ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর কাজ করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এরফানুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি স্থাপনাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গ্যাস পাম্পের খালি জায়গায় পার্কিং করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণস্থলের পাশে আরেকটি গ্যাসভর্তি ট্যাংক থাকায় নতুন করে বিস্ফোরণের আশঙ্কা দেখা দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি রক্ষা পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বিস্ফোরণের পরপরই এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। গ্যাস ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হয়। কলাতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখায় ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।