পারকি বাঁচাতে এগিয়ে এলো পাউবো, ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ

0

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পর ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেল পারকি সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রাম শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত এ সৈকত ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। দেশী বিদেশী পর্যটকদের কাছে চরম আকর্ষণের পারকির চর এখন অন্যরকম। ভরা মৌসুমেও মানুষের পদভারে সেই জমজমাট অবস্থা নেই। নেই সেই হাকডাক-জাঁকজমক অবস্থা। নানা সমস্যাও যেন জেঁকে বসে অযাচিত প্রতিবন্ধকতায় চরটি হারিয়ে ফেলছে তার সৌন্দর্য। আর চরের ব্যবসায়ীরাও মুখোমুখি হয়েছেন কঠিন জীবনযুদ্ধে। সুরক্ষায় উদ্যোগ না থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাটি ধ্বংস হতে চলেছে।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সৈকতের পাশ্ববর্তী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পদক্ষেপে রক্ষা পেয়েছে সারিবদ্ধ ঝাউবন ও পারকি সমুদ্র সৈকতে সৌন্দর্য। ভাঙন রোধ ও সৈকতের সৌন্দর্য সুরক্ষায় পাউবো’র জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরেছে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে পারকি সমুদ্র সৈকতে সরেজমিনে দেখা যায়, সাগরের জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং তীব্র ঢেউয়ের কারণে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে হুমকিতে পারকি সমুদ্র সৈকত। উপকূলীয় এলাকা পারকি সুরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত উদ্যোগ নেয় ভাঙন কবলিত অংশে বালুভর্তি জিও ও জিও টিউব বসানোর। এর ফলে ঢেউয়ের সরাসরি আঘাত থেকে সৈকত ও এর আশেপাশের স্থাপনাগুলো আপাতত রক্ষা পাচ্ছে।

আনোয়ারার দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী বর্ণ হক বলেন, পারকি সমুদ্র সৈকত দেশের সম্পদ। এর সৌন্দর্য রক্ষা করা এবং একই সাথে ভাঙন থেকে বাঁচানো প্রধান লক্ষ্য। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি, যাতে সৈকতের প্রাকৃতিক রূপ অক্ষুণ্ণ থাকে।

ব্যবসায়ী কাজী জাফর আহমেদ বলেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে সৈকতের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হতো, তেমনই হুমকিতে পড়তো পারকি।

পারকি সমুদ্র সৈকত ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, জিও ব্যাগ বসানোর কারণে ঝাউ গাছ ও পারকি সমুদ্র সৈকতে সৌন্দর্য রক্ষা পেয়েছে। তবে সামনে বর্ষা মৌসুমে বা বড় কোনো জলোচ্ছ্বাসে এই জিও ব্যাগগুলোর কারণে পারকি রক্ষা ফেলেও পাশ্ববর্তী এলাকা গুলো নিয়ে সংশয় রয়েছে। পারকি রক্ষায় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

স্থানীয়রা সৈকতের চেয়ে একে বেশি চেনে ঝাউবাগান হিসেবে; অর্থাৎ এখানে সৈকত তো আছেই, আছে বিশাল ঝাউবাগান। সঙ্গে আছে সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র পারকি সমুদ্র সৈকত নিয়ে চলছে নানামুখি আলোচনা। যারা আগে এসেছেন, তাদের কাছে এখন অনেকটাই অচেনা হয়ে পড়েছে আকর্ষণীয় এ সৈকতটি। বৈরী আবহাওয়া ও ঢেউয়ের ভাঙন থেকে পারকি সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ‘জিও ব্যাগে’র পদক্ষেপে সৈকতের ভাঙন রোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় লাগানো ঝাউগাছ গুলোও রক্ষা পেল।

পর্যটক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১ কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে সৈকতের মূল আকর্ষণ সারি সারি ঝাউ গাছের গোড়ার মাটি সরে গিয়ে উপড়ে পড়েছে। বালুচর ও সারি সারি ঝাউ গাছের করুণ পরিণতিতে সৈকতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। বর্তমানে সৈকতের চরের বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি উঠানামার কারণে খালে পরিনত হয়েছে সৈকতের চর। দেখে মনে হবে এই যেন এক যুদ্ধে ধ্বংসের অংশের ময়দানে।

এদিকে পারকির সুরক্ষায় আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন ও পাউবোর এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবেশবাদীরা।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, ‘পারকি সমুদ্রসৈকত রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, ‘পারকিতে ভাঙন রোধে তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ বসানো হয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি টেকসই ব্লক বাঁধের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে করে আগামী বর্ষা বা বড় কোনো দুর্যোগে সৈকতের আর কোনো ক্ষতি না হয়।’

তিনি বলেন, ‘পারকি সি বিচ বাংলাদেশের একটি সম্ভবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু অব্যহত ভাঙন ও সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে সৈকতের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। ইতিমধ্যে পারকি বিচ উন্নয়নে ‘পারকি সি-বিচ সংরক্ষণ’ নামে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে পারকির চিত্র।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।