চট্টগ্রামে বর্ষার শুরুতেই দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। সাধারণ জ্বরের পাশাপাশি শক সিন্ড্রোম, রক্তক্ষরণ, নিম্ন রক্তচাপ ও ডায়রিয়ার মতো জটিল উপসর্গ নিয়েও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আগামী পাঁচ মাস সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৭ জন। জুলাই মাসের অর্ধেক সময়েই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৪ জনে। ১৪ জুলাই পর্যন্ত চলতি বছরে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭২ জন এবং ডেঙ্গুতে মারা গেছেন দুজন।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। এর আগে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই বছর আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৭ ছাড়িয়ে যায়।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, “বেশিরভাগ রোগী জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। তবে অনেকেই রক্তক্ষরণ, লো ব্লাড প্রেসার, ডায়রিয়াসহ শক সিন্ড্রোমের লক্ষণ নিয়েও ভর্তি হচ্ছেন। ডেঙ্গু ও হাম—উভয়ই ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় শুরুতে উপসর্গ অনেক ক্ষেত্রে একরকম হতে পারে। তাই জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি।”
সম্প্রতি পরিচালিত বিশেষ জরিপে চট্টগ্রাম নগরের আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এসব এলাকায় বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি এবং আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, সেখানে নিয়মিত মশকনাশক ওষুধ ছিটানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, জনসচেতনতা বাড়ানোই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, টব, পুরোনো টায়ার বা যেকোনো স্থানে যাতে পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বী জানান, সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, প্রয়োজনীয় আইভি ফ্লুইড ও ওষুধ মজুত রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড ও বিশেষ কর্নার চালু করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।”
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রতিবছর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি থাকে। বছরের মোট আক্রান্তের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী এ সময়েই শনাক্ত হন। তাই বর্ষা মৌসুমজুড়ে ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


