গ্রীষ্মের শুরুতেই চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে তীব্র লোডশেডিং জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসায় দিনে-রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগর ও গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনায়েত বাজার, ফিরিঙ্গীবাজারসহ একাধিক এলাকায় দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, প্রতিবারই এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থরা। পাশাপাশি চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় মারাত্মকভাবে বিঘ্নের মুখে পড়েছে।
পিডিবি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে মোট ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট এবং রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার কারণে অধিকাংশ কেন্দ্র তাদের সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদনও করতে পারছে না। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৪,৬০০ মেগাওয়াটের বেশি হলেও বাস্তবে উৎপাদন অনেক কমে গেছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান মিলিয়ে এই অঞ্চলে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১,৩০০ থেকে ১,৪০০ মেগাওয়াট। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় লোডশেডিং বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, তেল ও গ্যাসের সংকটই মূলত উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। রাউজান তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে। একইভাবে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎকেন্দ্রেও পানির ঘাটতির কারণে নিয়মিত উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া ফার্নেস অয়েলচালিত কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক সক্ষমতায় চলছে। তবে মাতারবাড়ি ও বাঁশখালীর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল উৎপাদন বজায় রেখেছে।
চট্টগ্রামের কেন্দ্রগুলো এই অঞ্চলের চাহিদার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও নিয়মিত বিরতিতে লোডশেডিংয়ের কারণ জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোন এলাকায় কী পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, তা জাতীয়ভাবেই নির্ধারণ করা হয়। এখানকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। তারপর সেখান থেকে থেকে অঞ্চলভেদে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেওয়া হয়।


