সামাজিক প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির অনেক নারী গড়ে ওঠছে উদ্যোক্তা হিসেবে। তবে সমাজ ও পরিবারের নেতিবাচক মনোভাব, ব্যাংক ঋণ পেতে তদবির, সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবসহ নানা কারণে পদে পদে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছেন তারা। ক্ষুদ্র কিংবা মাঝারি সবধরনের উদ্যোক্তরাই স্বীকার হচ্ছেন নানা প্রতিবন্ধকতার। সংশ্লিষ্টরা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সহজে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার সুবিধাসহ নারীবান্ধব পরিবেশের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
পাহাড়ি নারীরা নানা প্রতিকূলতা ও পুঁজির সংকট পেরিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা, বুননশিল্প, জুম চাষ ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠছেন। তারা উচ্চ শিক্ষার পাশাপাশি নিজ মেধা ও শ্রমে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার ও সমাজের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
ঐতিহ্যবাহী থামি, পিনন এবং বাঁশ-বেতের সামগ্রী তৈরি করে তারা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন করছেন। চাকরির খোঁজে না ছুটে নিজেদের কর্মঠ করে গড়ে তুলছেন, যা তাদের সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা নিশ্চিত করছেন।
খাগড়াছড়ির পানখাইয়াপাড়া এলাকার নারী উদ্যোক্তা তেজশ্রী চাকমা ও জয়িতা চাকমা বলেন, ঘরে বসে না থেকে আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে স্বল্প পুজি দিয়েই ব্যবসা শুরু করেছি। এখন সরকারের কাছে আবেদন যেন উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। আমরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি। খাগড়াছড়িতে প্রায় ৮০ জনের মতো উদ্যোক্তা রয়েছে যারা অধিকাংশই প্রশিক্ষণ এবং পুজির অভাবে সামনে এগোতে পারছে না।
নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন সাবাঙ্গীর সংগঠক বেবি চাকমা বলেন, সমতলের তুলনায় পাহাড়ের নারী উদ্যোক্তরা অনেক পিছিয়ে। যদিও অনেকে দেখে মনে করেন আমরা সফল, কিন্তু বাস্তবে তা ভিন্ন। সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং কাচামালের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করে নারীদের সীমাবদ্ধ দূর করা এবং অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখতে পারার সুযোগ তৈরি করা।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের খাগড়াছড়ির উপ-পরিচালক সুস্মিতা খীসা বলেন, খাগড়াছড়ি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা তাদের এই যাত্রাকে আরও সহজ করে তুলেছে, যা পাহাড়ের অর্থনীতির নতুন ভিত্তি স্থাপন করছে। আমরা নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা প্রসার করতে সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করবো এবং প্রতি বছর তাদের কাজের প্রতি স্পৃহা বাড়াতে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে জেলার ৫ নারীকে জয়িতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। পার্বত্যাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দিতে হবে নীতিগত সহায়তা। নারীদের অর্থনীতিতে অবদান বাড়াতে সমাজ ও পরিবারের রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর উপরও জোর দেন তারা।
প্রসঙ্গত, দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে ৮ মার্চ নারী দিবস। দিবসটিকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে এবার রত্ন গর্ভা মা ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় টুম্পা ঘোষ, শ্রীলা তালুকদার, তেজশ্রী চাকমা, শ্রাবনী চাকমা ও তমসা চাকমাকে কীর্তিময়ী নারী সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।