গেল বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে সরকারের পদত্যাগ হলে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ডিন, প্রক্টররা একসাথে পদত্যাগ করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও (চবি) উপাচার্যের পদত্যাগের পর নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার দায়িত্ব নেয়। এরপরই তিনি একাডেমিক কার্যক্রম সচল করার জন্য নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাজান। নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন ডিন নিয়োগ করেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অন্তর্বর্তীকালীনভাবে নতুন ডিনদের দায়িত্ব প্রদান করে আসছে। ফলে নির্বাচিত নয়, নিয়োগপ্রাপ্ত ডিনদের মাধ্যমেই বিভিন্ন অনুষদের প্রশাসনিক কাজ চলছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— ডিন নির্বাচন কবে হবে?।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, ডিন নির্বাচন নিয়মিত না হলে শিক্ষার পরিবেশ ও একাডেমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহিতার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি নতুন নেতৃত্বের অভাবে নীতিগত অনেক পরিবর্তনও আটকে যেতে পারে।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড.কামাল উদ্দিন বলেন,
বিশ্ববিদ্যালয় একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। তবে বর্তমানে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সময় পার করছি। এ অবস্থায় আপাতত ডিন নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সময় হলে নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনের উচিত, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, সবশেষ ডিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ৩০ মার্চ। যেখানে ৮টি অনুষদের ডিন নির্বাচিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী, একজন ডিন সাধারণত ২ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। সে অনুযায়ী, তাদের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এই মেয়াদ শেষে এখনো নতুন নির্বাচন হয়নি। এছাড়া সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিন্ডিকেটে ১০ বছর কোন ডিন প্রতিনিধি নেই।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।