পার্পল ডে: মৃগী রোগ নিয়ে কুসংস্কার ভাঙতে চাই সচেতনতা

এপিলেপসি, যা সহজ ভাষায় মৃগী রোগ হিসেবে পরিচিত, একটি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক রোগ, যেখানে মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের ফলে খিঁচুনি বা সিজার দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৫ কোটিরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বসবাস করেন। প্রতি বছর ২৬ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় পার্পল ডে, যার মূল উদ্দেশ্য মৃগী রোগ নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করা, বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সমাজে সহানুভূতিশীল ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা।

২০০৮ সালে কানাডার এক কিশোরী ক্যাসিডি মেগানের উদ্যোগে পার্পল ডে পালন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশে মৃগী রোগের প্রকৃত সংখ্যা জানা না থাকলেও, বড় একটি অংশ এতে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত বা চিকিৎসা না হওয়ার মূলে রয়েছে সচেতনতার অভাব ও সামাজিক কুসংস্কার। সঠিক তথ্যের অভাবই এই রোগকে আরও জটিল করে তোলে। তাই বিশ্বব্যাপি চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই দিনটি ঘিরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

আমাদের দেশের অনেকেই মনে করেন এটি সংক্রামক রোগ, আবার কেউ কেউ এটিকে অলৌকিক বা অতিপ্রাকৃত কোন শক্তির প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। ফলে অনেক পরিবার রোগটি গোপন রাখার চেষ্টা করে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিরা সামাজিকভাবে বৈষম্যের শিকার হন। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এমনকি বিয়ের ক্ষেত্রেও এই ভুল ধারণা নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

তবে বাস্তবে মৃগী রোগ একটি চিকিৎসাযোগ্য স্নায়বিক অবস্থা এবং আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। প্রায় ৭০ শতাংশ রোগী নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে খিঁচুনি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সক্ষম হন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে উন্নত ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-এপিলেপটিক ওষুধের মাধ্যমে রোগটি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

চট্টগ্রামে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মৃগী রোগসহ বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যা নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। এখানে উন্নত নিউরোইমেজিং, ইইজি, ইন্টেগ্রেটেড ক্লিনিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট ইত্যাদির মাধ্যমে রোগীদের নির্ভুল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সুবিধা ও অভিজ্ঞ নিউরোলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে সেবা নিয়ে রোগীরা ব্যাপক সুফল পাচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে মৃগী রোগ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে যত বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ ছড়িয়ে দেওয়া যাবে, তত দ্রুত কুসংস্কার কমবে ও রোগীরা চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত হবে।

লেখক: এ্যাটেন্ডিং কনসালটেন্ট – নিউরোলজি
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।