প্রকৃতির রঙে রঙিন ‘ডিসি পার্ক’, দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস

সাগরের নোনা হাওয়ার সঙ্গে ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। এক পাশে ঢেউয়ের শব্দ, আরেক পাশে রঙিন পাপড়ির উচ্ছ্বাস। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ডিসি পার্কে পা রাখতেই যেন চোখে পড়লো অন্য এক জগৎ। মাসব্যাপী ফুল উৎসবে এখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ পরিবার নিয়ে হাঁটছেন, আবার কেউ সাহস সঞ্চয় করছেন জিপলাইনে চড়ার জন্য।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ফৌজদারহাট-বন্দর সংযোগ সড়কের পাশে সলিমপুর এলাকার ডিসি পার্কে দেখা গেছে এমন চিত্র। গতকাল শুক্রবার মাসব্যাপী ফুল উৎসবের সূচনা করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হক। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবার এটি ডিসি পার্কের চতুর্থ ফুল উৎসব।

চট্টগ্রাম নগর থেকে আসা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, তিন বছর ধরেই ডিসেম্বর এলেই আমরা ফুল উৎসবের অপেক্ষায় থাকি। এবার পুকুরের দুই পাশেই ফুল দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। উৎসব শুরু হলে পরিবার নিয়ে আবার আসব।

পার্কের ভেতরে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ে গাঁদা, জবা, কৃষ্ণচূড়া আর চন্দ্রমল্লিকার সারি। এর ফাঁকেই বিদেশি লিলিয়াম আর ম্যাগনোলিয়া। ফুলের এই সমাহার দেখে মুগ্ধ কলেজছাত্রী মাহফুজা আক্তার। তিনি বলেন, সাধারণত এত ধরনের ফুল একসঙ্গে দেখা যায় না। মনে হচ্ছে বিদেশের কোনো গার্ডেনে হাঁটছি। ছবি তুলতে তুলতেই সময় কেটে যাচ্ছে।
প্রকৃতির রঙে রঙিন ‘ডিসি পার্ক’, দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস 1

এবারের সবচেয়ে আলোচিত আকর্ষণ জিপলাইন। পুকুরের ওপর দিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যাওয়ার সেই মুহূর্তে ভয় আর আনন্দ মিলেমিশে একাকার। জিপলাইনে চড়ে নেমে আসা তরুণ সাইফুল ইসলাম হাসতে হাসতে বলেন, আগে ফুল দেখতে আসতাম, এবার অ্যাডভেঞ্চারও আছে। প্রথমে একটু ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু একবার নামার পর মনে হলো, আবার চড়ি!

শিশুদের কোলাহল, পরিবারের ব্যস্ততা আর ক্যামেরার ক্লিক শব্দে পার্ক যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সন্তানদের নিয়ে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার বললেন, শিশুদের জন্য আলাদা জায়গা থাকায় ভালো লাগছে। ফুল দেখছে, খেলছে, সব একসঙ্গে। শহরের বাইরে এমন আয়োজন খুব দরকার।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল হক বলেন, এটা শুধু বিনোদন না, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একটা সম্পর্ক তৈরি করে। এমন আয়োজন আরও হওয়া উচিত।
প্রকৃতির রঙে রঙিন ‘ডিসি পার্ক’, দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস 2

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, মাসব্যাপী এই উৎসবে ২০ লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের স্মৃতি ধরে রাখতে পেশাদার ফটোগ্রাফার এবং ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পার্কের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে বিনোদন উপকরণ এবং পূর্ব পাড়ে খাবারের স্টল ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুল উৎসব। দর্শনার্থীদের বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রতিবছরই নতুন নতুন থিম যুক্ত করা হচ্ছে। এ উৎসবে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার প্রায় অর্ধ লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে।
প্রকৃতির রঙে রঙিন ‘ডিসি পার্ক’, দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস 3

প্রসঙ্গত, মাসব্যাপী এই ফুল উৎসবে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ রয়েছে। এবছর নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি ও ফ্লাওয়ার টানেল। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রকৃতির রঙে রঙিন ‘ডিসি পার্ক’, দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস 4

উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ ও মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক স্টলও স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কর্নার।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।