রাঙামাটির ২০ কেন্দ্রে ব্যালট যাবে হেলিকপ্টারে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রাঙামাটির ২০ কেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চার উপজেলার দুর্গম ৯ ইউনিয়নের এসব কেন্দ্রে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপার, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পৌঁছে দেওয়া হবে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, এসব দুর্গম কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ১২ জন। রাঙামাটি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে এসব কেন্দ্রের ভোটাররা ফ্যাক্টর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম চারটি ইউনিয়নের ৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ১০ হাজার ৮৮৫ জন। বরকল উপজেলার দুই ইউনিয়নের ২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৯০ জন। জুরাছড়ি উপজেলার তিন ইউনিয়নের ৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ১০ হাজার ১২৪ জন। আর বিলাইছড়ি উপজেলার দুই ইউনিয়নের ৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৭ হাজার ৯১৩ জন।

ভোট গ্রহণের দুদিন আগে হেলিকপ্টারযোগে এসব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বক্স, স্ট্যাম্প প্যাড, অমোচনীয় কালি ও অন্যান্য নির্বাচনসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হবে। ভোট গ্রহণ ও ফলাফল গণনা শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনরায় হেলিকপ্টারে করে ফিরিয়ে আনা হবে।

প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব দুর্গম ২০টি কেন্দ্রের ভোট ফলাফলে বড় প্রভাব পড়ে। অন্য কেন্দ্রগুলোর ফলাফল দ্রুত এলেও দুর্গম এসব কেন্দ্রে ফলাফল আসতে দেরি হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত কে সংসদে যাবেন– তা অনেকাংশেই নির্ভর করে এসব কেন্দ্রের ভোটের ওপর।

তবে দুর্গমতার কারণে বেশির ভাগ প্রার্থী সরাসরি সেখানে প্রচারে যেতে পারেন না। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে হয়। ফলে যিনি স্থানীয় ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারেন, তারই জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘনিয়ে এলেও জেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ এখনও গণভোট সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। অনেকেই জানেন না গণভোট কী এবং এতে ভোট দিলে কী উপকার পাওয়া যাবে।

এই প্রেক্ষাপটে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দুর্গম এলাকায় গণভোটের প্রচারপত্র বিতরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। গত ১২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের দুর্গম হলিসর্টি ভোটকেন্দ্র (ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) এবং জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুম্যাই ইউনিয়নের দুর্গম হলিসর্টি ভোটকেন্দ্র (বগাখালী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়) পরিদর্শন করেন।

এসব ভোটকেন্দ্র বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধাবিহীন। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সাধারণ জনগণের উদ্দেশে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন এবং স্থানীয়দের মাতৃভাষায় লেখা গণভোটের প্রচারপত্র বিতরণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ‘এবার দুর্গম ২০টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নির্বাচনসামগ্রী ও কর্মকর্তাদের পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন সচিবালয়ে সিনিয়র সচিবকে জানানো হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল অফিসারের কাছে চিঠি পাঠানো হবে।’

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষে নিশাত শারমিন বলেন, ‘গণভোট বিষয়ে দুর্গম এলাকার মানুষকে অবহিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার একাধিক দুর্গম হলিসর্টি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয়দের মাতৃভাষায় প্রচারপত্র বিতরণ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।’

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।