পাহাড়ের পাদদেশে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে এবার আমনের ধানের সোনালি ঢেউ। ভোরের সূর্যরশ্মি শিশির বিন্দুর ওপর পড়ছে, আর বাতাসে ভেসে আসছে মিষ্টি ধানের গন্ধ। পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকরা ভালো ফলনে খুশি, চলতি মৌসুমে সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও ধান কেটে ঘরে তোলায় স্বস্তি পাচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এবার ধানের দাম ১ হাজার থেকে ১,৩০০ টাকা প্রতি মন হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।
মাঠে দেখা গেছে, কেউ ধান কেটে ঘরে তুলছেন, কেউ আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে মারাইয়ে ব্যস্ত। আনন্দে হাসিমুখে কৃষকরা আমনের ফসল ঘরে তুলছেন। দিনমজুররাও দিনে ৭০০–৮০০ টাকায় কাজ করে সন্তুষ্ট, যদিও বর্তমান বাজারমূল্যে আরও বেশি পারিশ্রমিক আশা করছেন।
কৃষকেরা জানান, পাহাড়ে পানি সংকট দূর হলে সারাবছর চাষ করা সম্ভব। এখানকার আবহাওয়া ও উর্বর জমি যেকোনো ফসলের জন্য উপযোগী। সরকার যদি সেচ পাম্প বা পানি প্রকল্পের উদ্যোগ নেন, তবে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সুবিধা হবে।
ফসল বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সড়ক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকেরা আশা করছেন, রাঙ্গামাটি থেকে লংগদু পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণ হলে যোগাযোগ সহজ হবে, চাষের খরচ কমবে ও ধানের দাম বেশি পাওয়া যাবে।
লংগদু উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা উপ-সহকারী রাতন চৌধুরী জানান, প্রায় ৮০ শতাংশ ধান কেটে কৃষকরা ঘরে তুলেছেন। এবারের উৎপাদন তুলনামূলক বেশি। উপজেলায় ১,০১২ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২,৭৪৯ মেট্রিক টন, যা এ বছর ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, কৃষি অধিদপ্তর সার্বক্ষণিকভাবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছে।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।