সবুজ পাহাড়ে হলুদের সম্ভাবনা

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় হলুদ চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এখন বড় সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের ঢালু জমি, উপযোগী মাটি ও জলবায়ুর কারণে এখানে স্বল্প পরিশ্রমে এবং ছায়াযুক্ত স্থানে হলুদ ভালো উৎপাদন হয়, ফলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক ফসল।

হলুদের মৌসুম চলে বছরের তিন-চার মাস, বিশেষ করে আটারকছড়া ও ইসলামবাদ এলাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ব্যস্ততা দেখা যায়। কাঁচা হলুদ পাহাড় থেকে সংগ্রহ করে বাজারে আনা হয়, এরপর সিদ্ধ করা, রোদে শুকানো ও মেশিনে পরিষ্কার করে বাজারজাত করা হয়। এই হলুদ পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, এবছর দাম গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে, তবে বড় ক্রেতারা পুরোপুরি বাজারে না আসায় বিক্রি এখনও তেমন শুরু হয়নি। তবুও তারা লাভের আশায় আগেভাগেই হলুদ কিনছেন।

স্থানীয়দের মতে, হলুদনির্ভর অনেক পরিবারের জীবিকা চলে, শ্রমিকদের আয়ও এর ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ ৩৫ জন কৃষককে প্রণোদনা দিয়েছে, প্রত্যেককে ১০০ কেজি উন্নত বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

লংগদু উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. ইসরাফিল হক জানান, চলতি মৌসুমে লংগদুতে ৩৫ জন কৃষককে হলুদ চাষে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে।

প্রত্যেক কৃষককে ১০০ কেজি উন্নতমানের হলুদের বীজ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৫ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার দেওয়া হচ্ছে। হলুদ চাষে যেকোনো পরামর্শ ও সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় কৃষকদের পাশে আছে।

প্রান্তিক কৃষকেরা হলুদ চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছে। যার ফলে পার্বত্য অঞ্চলে দিন দিন হলুদের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।