হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে শিশু ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে

চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে শিশু ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। জ্বর, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়াসহ হামের লক্ষণ নিয়ে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে সোমবার (৩০ মার্চ) এ তথ্য জানা যায়।

তথ্য অনুযায়ী, ভর্তিদের মধ্যে রোববার (২৯ মার্চ) পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন এবং আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগী কক্সবাজার অঞ্চল থেকে এসেছে এবং তাদের বয়স ১৫ মাসের কম।

হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে পৃথক ‘হাম কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে রোগীদের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রাখা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, প্রাথমিকভাবে রোগীর লক্ষণ দেখে চিকিৎসা শুরু করা হয় এবং পরে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। যাদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়, তাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই পরে হাম ধরা পড়ে। রোগীদের আলাদা স্থানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি বেশি এবং জটিলতায় নিউমোনিয়াসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো এমএমআর টিকা গ্রহণই এ রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলায় দুই শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ১৬ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট এলে রোগ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং টিকার বাইরে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলাগুলোতে স্বাস্থ্য সহকারীরা ২৪ মাসের মধ্যে এমএমআর টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে দ্রুত টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। সন্দেহজনক কোনো রোগী পাওয়া গেলে দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করে সিরাম ও সোয়াব পরীক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।