১৮০ দিনের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদ খনন শুরু হবে: পার্বত্য মন্ত্রী

আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদ খনন কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। একইসঙ্গে পার্বত্য তিন জেলার সার্বিক উন্নয়নে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদ পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনীতি, যোগাযোগ, মৎস্য ও পর্যটনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে হ্রদে পলি জমে নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় নৌযান চলাচল, মাছ উৎপাদন এবং পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা নিরসনে সরকার কাপ্তাই হ্রদ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।’

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জেলা পরিষদের নির্বাচন প্রসঙ্গে পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, সাবেক পার্বত্য উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ, সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরীসহ জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতারা।

সভায় বক্তারা রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ, পানি ব্যবস্থাপনা, পর্যটন অবকাঠামো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

এর আগে সকালে একই সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা করেন তিনি। ওই সভায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।