চবিতে রমজানে চলছে ক্লাস, মিশ্র প্রতিক্রিয়া শিক্ষক শিক্ষার্থীদের

0

আজ রমজানের ২য় দিন। গতকাল রোববার (৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান। এবছর রমজানেও চালু রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ক্লাস কার্যক্রম। আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস কার্যক্রম চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ১ম ও ২য় রমজানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ঘুরে তুলনামূলক কম দেখা গেছে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। তবে প্রথমদিকের তুলনায় রমজানের পরবর্তী দিনগুলোতে ক্লাসে উপস্থিতির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অপরদিকে রোজা রেখে ক্লাস করার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কটেজ ও মেসে থেকে ক্লাসে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক সহজভাবে ক্লাসের সময়টা পার করতে পারলেও কিছুটা কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহর থেকে বাসে এবং শাটল ট্রেনে করে আসা শিক্ষার্থীরা।এছাড়া শীক্ষার্থীদের পাশাপাশি রোজা রেখে ক্লাস নেয়াটা তুলনামূলক কঠিন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরাও।

বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদেরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রমজানে রোজা রেখে ফজরের পরে না ঘুমিয়ে ক্লাসে আসাতে স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েছেন তারা। সকালে না ঘুমিয়ে ক্লাসে আসার ফলে ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হচ্ছিল বলেও জানান তারা। এছাড়াও দীর্ঘপথ শাটলে ও বাসে চড়ে এসে দীর্ঘক্ষণ ধরে ক্লাস করে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন শহর থেকে আসা শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসের সোহরাওয়ার্দী হল থেকে ক্লাসে অংশগ্রহণ করা আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী নূর আলম বলেন, আসলে যদি আমরা পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে তারপর ক্লাসে যেতে পারতাম তাহলে আমাদের ক্লাস করতে খুব একটা সমস্যা হত না। কিন্তু এখন আমাদের পর্যাপ্ত না ঘুমিয়ে সকালে আমাদের ক্লাসে অংশ নিতে হয়েছে। এছাড়া রোজা রাখার পর সকালের দিকের ক্লাসগুলোতে ক্ষুধার চাপ থাকে না। তাই মোটামুটি মনোযোগ রাখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ক্ষুধার চাপ বাড়তে থাকে। তখন ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখাটা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে।

চবিতে রমজানে চলছে ক্লাস, মিশ্র প্রতিক্রিয়া শিক্ষক শিক্ষার্থীদের 1

শহর থেকে এসে ক্লাসে অংশ নেয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাবা আল মুনা বলেন, একে তো সকালে না ঘুমিয়ে ট্রেন ধরে ক্লাসে এসেছি তার উপর রোজা রেখে দীর্ঘ পথ জার্নি করে আসার ধকল। সব মিলিয়ে ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন ছিল।

তিনি আরো বলেন, ক্লাসে আসার চাইতে বেশি কঠিন ছিল শাটলে চড়ে শহরে ফেরত যাওয়াটা। রোজা রেখে ক্লাস করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে আবারো শাটলে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে বাসায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে শরীর একেবারেই ছেড়ে দিয়েছিল। সব মিলিয়ে রোজা রেখে শহর থেকে গিয়ে ক্লাস করাটা কঠিনই ছিল।

এছাড়াও রোজা রেখে ক্লাস নেয়াটা কঠিন ছিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরাও। বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নিয়ামত উল্ল্যাহ ভূঁইয়া বলেন, রমজানে ক্লাস চালু না থাকলে আমরা সকালের সময়টা ঘুমিয়ে কাটাতাম। কিন্তু এখন রোজা রেখে শহর থেকে এসে ক্লাস নিতে হচ্ছে। যা আসলেই একটু কঠিন। রোজা রেখে দীর্ঘক্ষণ ক্লাসে লেকচার দেয়াটা কষ্টসাধ্য তবে প্রথমদিকে কষ্টটা একটু বেশি হলেও কয়েকদিন যাওয়ার পর ধীরে ধীরে এটার সাথে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই মানিয়ে নিতে পারবেন বলে আমি মনে করি।

তিনি আরো বলেন, কষ্ট হলেও ক্লাস নেয়াটা আমাদের দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রমজানের কিছুদিন ক্লাস চালু রাখার ফলে করোনাকালীন যে ক্ষতিটা হয়েছে তা কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেয়া যাবে।

এমএফ

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm