চবির সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হতে লাগে আলাদা নির্বাচন, সম্পর্ক নেই চাকসুর সাথে!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে জয়ী হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিনেট সদস্য হতে পারবেন না কেউ। চবির সিনেট সদস্য হতে হলে প্রয়োজন পড়ে আলাদা করে নির্বাচন। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যআন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ঠাত্র সংসদ থেকে সিনেট সদ্য হওয়ার বিধান রয়েছে।

গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাকসু নির্বাচন পরিচালনার প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন। তিনি জানান, চাকসুতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সিনেট সদস্য হতে পারবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হওয়ার জন্য আলাদা নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। চাকসু নির্বাচনের সঙ্গে সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ এর ২২ নং অনুচ্ছেদের ধারা ১ (ঠ) এ বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দ্বারা নির্বাচিত ৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সিনেট সদস্য হবেন। একই অনুচ্ছেদের ২ নং ধারায় বলা হয়েছে, পদাধিকার বলে এবং শিক্ষার্থীদের দ্বারা নির্বাচিত সিনেট সদস্য ব্যতিরেকে অন্যান্য সিনেট সদস্যের কার্যকাল হবে তিন বছর এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সিনেট সদস্যের কার্যকাল হবে ১ বছর। ২ নং অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সদস্যগণ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ছাত্রত্ব শেষ হলে সদস্যপদও হারাবে। ডাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ৫ জন সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

চাকসুতে এর ব্যতিক্রম কেন তা জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, চবিতে সিনেট সদস্য রাজশাহীর মত সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবার নিয়ম। সেই নির্দেশনা আমাদের দেয়া হয়নি। চবিতে অদ্যাবধি সিনেটে কখনো ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়নি। রাজশাহী আগের রাকসুতেও সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। এবারও ৫ জন সিনেট সদস্য নির্বাচনের তফসিল দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, রবিবার মনোনয়নপত্র বিতরণের প্রথম দিনেই ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। মোট ২৭ জন শিক্ষার্থী ফরম সংগ্রহ করেছেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। সেই লক্ষ্যে প্রার্থী বাছাই, প্রচারণার কৌশল নির্ধারণ এবং জোটবদ্ধ হওয়ার প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে অন্তত আটটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এই নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৬৩৪ জন শিক্ষার্থী।

সূত্র: ইনকিলাব

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।