জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে— বিভাগীয় কমিশনার

0

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশেরই সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক ইস্যু। এ দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এখানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বর্তমান সরকার ব্যাপক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অবশ্যই সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জনগণকে আরও ব্যাপকভাবে সচেতন করতে হবে। বনভূমি ধ্বংস বন্ধ করার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন বাড়াতে হবে। পরিবেশের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

মঙ্গলবার (১০ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিভাগে জলবায়ু পরিবর্তন, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর পরিবেশ বিষয়ক কার্যক্রম সম্পর্কিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) এর সহযোগিতায় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

তিনি বলেন, পিকেএসএফ ও কোডেক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসইভাবে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবন-মান উন্নয়নের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান বহুমাত্রিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

সভায় জানানো হয়, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় চট্টগ্রামসহ বিভাগের ৭টি উপকুলীয় জেলা এলাকায় পিকেএসএফর পক্ষ থেকে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের বাজেট ধরা হয়েছে ৫০ লাখ মিলিয়ন ডলার।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের কৃষিখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষিকে এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে লবণাক্ততা সহিষ্ণু, খরাসহিষ্ণু, জলমগ্নতা সহনশীল, উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীলসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে চাষের উপযোগী ধান, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সম্প্রসারণে আমাদের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক সফলতা এসেছে।

বক্তারা আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ পৃথিবীতে মর্যাদাশীল জাতি। তিনি বাংলাদেশকে মর্যাদা ও সম্মানের দিক দিয়ে পৃথিবীতে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন। সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় সরকার সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে ও কোডেক’র সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ইন্দ্রানী কানুনগোর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের কার্যপরিধি ও চট্টগ্রাম বিভাগে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন পিকেএসএফ’র উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোডেক’র উপ-নির্বাহী পরিচালক কমল সেনগুপ্ত। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে প্রাইভেট সেক্টরে প্রশমন সংক্রান্ত কার্যক্রমে জিসিএফ’র অর্থায়ন বিষয়ক উপস্থাপনা করেন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী লিমিটেডের (ইডকল) জিসিএফ’র ইউনিট প্রধান এম. মুসলেহ উদ্দিন।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ নাথ, বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক ইদ্রিছ আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সাইয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক আয়েশা আক্তার, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ওয়াহিদুল আলম, চট্টগ্রাম মহিলা বিষয়ক উপ-পরিচালক মাধবী বড়ুয়া, কোডেক’র ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার অলকা চৌধুরী, কোতোয়ালী থানা লাইভস্টক কর্মকর্তা ডা. শরমীন আক্তার, ইপসা প্রতিনিধি প্রবাল বড়ুয়া প্রমূখ।

সভায় বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm