চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম গতকাল থেকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় তিনি নিজ দপ্তর থেকে বের হতে পারছেন না। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টা পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। গত সোমবার দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা ভবনের ফটকে তালা দেওয়ায় তিনি সেখানে আটকা পড়েন। উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তালা খুলবেন না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্যের সঙ্গে ভবনের ভেতরে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদসহ ১০ থেকে ১১ জন অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন। রাত দেড়টার দিকে তাদের একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অবরুদ্ধ অবস্থায় রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, রাতে ঘুমাতে পারেননি তিনি। রাত দুইটার দিকে পুলিশের মাধ্যমে খাবার আনা হলে তা খেয়েছেন। প্রচণ্ড মাথাব্যথার কারণে রাতেও ঘুমাতে পারেননি বলে জানান তিনি।
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করুক, সমস্যা নেই। কিন্তু আমি দপ্তরে এলাম নয়টায়, এর দু-তিন ঘণ্টার মধ্যেই এভাবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দেওয়াটা অমানবিক। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত দাবি তার কাছে দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। লিখিত দাবি পেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবহিত করতেন বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য।
শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম পদত্যাগ করলেই তারা তালা খুলে দেবেন। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ করলে তাকে সম্মানের সঙ্গে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ বলেন, নতুন উপাচার্য এভাবে ক্যাম্পাসে আসবেন, তা তারা ভাবেননি। তাদের অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


