আরব আমিরাত ভিসা নবায়নে জটিলতা, অবৈধ হওয়ার ঝুঁকিতে প্রবাসীরা

0

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা ট্রান্সফার ও ভিসা নবায়ন জটিলতায় চরম সংকটে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে যাওয়া সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন বহু শ্রমিক কর্মহীন ও অবৈধ হয়ে পড়ছেন। অন্য দিকে ভিসা অনেকের ভিসা নবায়নেও আটকে থাকায় বৈধভাবে কাজ করেও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।

প্রবাসীরা জানান ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট এর পর থেকেই হটাৎ অভ্যন্তরীণ ভিসা ট্রান্সফার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা চাইলে এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে যেতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সুযোগ না থাকায় বহু শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন।

শুধু এই ট্রান্সফার ভিসা ছাড়া ও ভিসা নবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। বহু প্রবাসী অভিযোগ করেছেন,বছরের পর বছর বৈধভাবে কাজ করার পরেও এখন তাদের ভিসা রিনিউ আটকে যাচ্ছে।কোনো সুস্পষ্ট কারণ জানানো হচ্ছে না, ইমিগ্রেশন অফিসে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মৌখিক ভাবে বলছেন,বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কুটনৈতিক আলোচনা বা উদ্যোগ দৃশ্যমান না থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না।

প্রবাসীদের একটি বড় অংশ মনে করছে ৫ আগষ্ট এর পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আরব আমিরাতে কিছু বাংলাদেশি বিক্ষোভ ও মিছিলে অংশ নেওয়ার ফলে দেশটির প্রশাসন এর মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরী হয়েছে। সে সময় অনেক বাংলাদেশি প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়।এর পর থেকে বাংলাদেশিদের ভিসা ট্রান্সফার ও নবায়নে অঘোষিত কড়াকড়ি শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শারজাহ প্রবাসী মোহাম্মদ নুরু উদ্দীন বলেন আমি আরব আমিরাতে বৈধ ভিসা নিয়ে দোকানে কর্মরত আছি ৫ বছর কোনো সমস্যায় পড়তে হয় নাই,কিন্তু এবার ভিসা নবায়নের সময় আমার ভিসা রিনিউ হচ্ছে না,এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ বলা হচ্ছে না।

প্রবাসী সংশ্লিষ্টরা বলছেন,বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত দেশটিতে ১০ লক্ষের অধিক প্রবাসী বিভিন্ন পেশায় কর্মরত,যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স এ দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে জটিলতা তৈরী হলেও কুটনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান নয়।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবি এই সংকট সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দ্রুত সমাধান না হলে হাজার হাজার প্রবাসী অবৈধ হয়ে পড়বেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।