ঈদুল আজহার টানা ছুটি ঘিরে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত আবারও পর্যটকের আগমনের অপেক্ষায়। নীল জলরাশি, বিস্তীর্ণ বালুচর আর বর্ষার উত্তাল ঢেউয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এবার ঈদের আগে হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে প্রত্যাশিত বুকিং না থাকায় কিছুটা হতাশা দেখা দিলেও শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলাবে—এমন আশায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, “এবার ঈদুল আজহা বর্ষাকালে হওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি হবে। বর্ষার উত্তাল সমুদ্র উপভোগ করতে অনেকেই এখানে আসবেন বলে আমরা আশা করছি।”
তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে হোটেলগুলোতে বিশেষ ছাড় ও প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে হোটেল কক্স-টুডের ব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ জানান, “এখনো যে পরিমাণ বুকিং হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। তবে আমরা আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পর্যটকদের চাপ বাড়বে এবং কক্সবাজার আবারও জমে উঠবে।”
কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ সড়ক হোটেল-মোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, “সাধারণত ঈদের ১০–১৫ দিন আগে থেকেই বুকিং শুরু হয়ে যায়। এবার সেই গতি দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে বুকিং প্রায় ৩০ শতাংশের মতো।”
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছে। সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে বাড়তি নজরদারি রাখা হবে বলে জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, “ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সমাগম হবে বলে আমরা ধারণা করছি। তাই সৈকত ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।”
সব মিলিয়ে বুকিংয়ে কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশা—শেষ মুহূর্তে পর্যটকের ঢলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে কক্সবাজারের পর্যটন অর্থনীতি।


