পবিত্র ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিনে পার্বত্য জেলা বান্দরবান-এ পর্যটকের ঢল নেমেছে। টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো। পাহাড়, মেঘ আর সবুজের টানে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
জেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে কোনো খালি কক্ষ নেই। আগাম বুকিংয়েই প্রায় শতভাগ পূর্ণ হয়ে গেছে সব আবাসন। কয়েকদিন আগেই বুকিং শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক পর্যটককে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র ও নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র-এ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। একইভাবে চিম্বুক পাহাড় ও নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র-এও ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। টিকিট কাউন্টার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজারের বেশি প্রবেশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে।
অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে শহরের প্রধান সড়ক ও পাহাড়ি পথে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নীলাচল ও মেঘলা অভিমুখী সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও ট্যুরিস্ট বাসের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মনজুর বলেন, “পরিবার নিয়ে প্রথমবার বান্দরবান এসে কয়েকটি স্পট ঘুরেছি। এর মধ্যে নীলাচল সবচেয়ে ভালো লেগেছে।”
সিলেট থেকে আগত সৌরভ বলেন, “হোটেল না পেয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়েছি। তবে পাহাড়ের সৌন্দর্য সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে।”
গাজীপুরের সোহাগ কুমার বলেন, “অনেকবার বান্দরবান এসেছি, তবুও প্রতিবারই নতুন করে ভালো লাগে। প্রকৃতির টানেই আবার আসা।”
নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শফিকুল ইসলাম জানান, “ঈদের তৃতীয় দিনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি পর্যটক এখানে ভ্রমণ করেছেন। দিন শেষে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।”
জিপ-মাইক্রোবাস মালিক সমিতির লাইনম্যান মো. কামাল হোসেন বলেন, “সকাল থেকে ২৩০টি পর্যটকবাহী গাড়ি বিভিন্ন স্পটে গেছে, প্রতিটি গাড়িতে ১৩ জন করে যাত্রী ছিল।”
জেলা হোটেল ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার পর্যটকের চাপ বেশি। অনেকেই হোটেল না পেয়ে বিকল্প আবাসনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।”
বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) ফরিদ উদ্দীন জানান, “পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।”
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
ঈদের আনন্দে মুখর হয়ে উঠলেও জ্বালানি সংকটের কারণে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। তবুও সব মিলিয়ে পর্যটকের ভিড়ে জমে উঠেছে বান্দরবানের পর্যটন খাত।



মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।