উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির, ফেরত যাচ্ছে সহায়তার অর্থ

পটিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান দুইমাস ধরে কারাগারে

0

পটিয়া উপজেলার ১২নং হাইদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মারামারির একটি ঘটনায় দুই মাস ধরে কারাগারে থাকায় উন্নয়ন সহায়তার তহবিলের অর্থ ফেরত যাচ্ছে।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম জসিম কারারক্ষীদের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে প্রায় দুই মাস ধরে কারাগারে থাকায় এলাকার মানুষ নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট, ওয়ারিশ সনদ, জন্মসনদ, ভোটার তালিকা হাল নাগাদ ছাড়াও পরিষদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আগামী ২৮ জুনের মধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনীত করা না গেলে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের প্রায় ৫ লাখ টাকা ফেরত যাবে।

তবে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের ১২জন ইউপি সদস্য একমত না হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পরবর্তীতে তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে এখনো কোন সিদ্ধান্ত না আসায় ভোগান্তির পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ছে।

জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল (শুক্রবার) পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিতেন কান্তি গুহকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

এ ঘটনায় জিতেনের ভাই তাপস কান্তি গুহ বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম জসিমকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে কাঁচের বোতলে বিএম জসিমের পা কেটে রক্তাক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সনজয় কুমার ঘোষ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

এদিকে, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল মামুন প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য গত ৮ জুন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন করেন।

এর মধ্যে ৩জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও ৯জন সাধারণ সদস্য রয়েছে। তারা হলেন-সংরক্ষিত সদস্য পারভীণ আকতার, রেখা দাশ, তসলিমা নুর, সাধারণ সদস্যরা হলেন- জয়নুল আবেদীন, টিটু দেব, আবুল কাসেম, রাসুলে হাদ্দাস, রনজিত কুমার চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক চৌধুরী, নাছির উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন।

প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ঝুলে রয়েছে। ফলে উন্নয়ন ব্যাহত ও উন্নয়ন সহায়তার অর্থ ফেরত যাচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব উজ্জ্বল দাশ জানান, প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনয়ন সংক্রান্তে ১২জনের একটি তালিকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে কি কারণে আটকে রয়েছে তা জানেন না। চলতি মাসে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিষয়টি চূড়ান্ত না হলে প্রায় ৫ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত যাবে।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল মামুন জানান, হাইদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম জসিম প্রায় দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। আগামী ২৮ জুনের মধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনীত করা না গেলে অর্থ ফেরত পাঠানো হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।