কর্মসংস্থান ও ভিসা সংকটে জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়ে চট্টগ্রাম

0

এক সময় মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে জনশক্তি রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম এখন পিছিয়ে পড়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা, সব ধরনের পেশায় কাজ করতে অনীহা এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে বিদেশে গেছেন ৮৭ হাজার ৫২৪ জন কর্মী। একই সময়ে কুমিল্লা থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৩ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৮ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। ফলে জনশক্তি রপ্তানিতে চট্টগ্রাম পিছিয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চট্টগ্রামের মানুষ মূলত ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেতে বেশি আগ্রহী। এসব দেশে আগে থেকেই চট্টগ্রামের মানুষের বড় কমিউনিটি থাকায় নতুন কর্মীরাও সেখানে যেতে চান। তবে দীর্ঘদিন ধরে ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা কমে এসেছে।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) উপ-পরিচালক (প্রশাসন) জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে কর্মী যায়। কিন্তু চট্টগ্রামের লোকজন নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের প্রতিই বেশি আগ্রহী। নিজ এলাকার লোকজন যে দেশে বেশি, সেখানেই মূলত যেতে চান।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের মানুষ সাধারণত ব্যবসা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে আগ্রহী। শ্রমনির্ভর সব ধরনের কাজে তারা আগ্রহ দেখান না। এছাড়া চট্টগ্রামে শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায় অনেকেই এখন দেশে থেকেই আয়-রোজগার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (অ্যাটাব) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবু জাফর বলেন, চট্টগ্রামের লোকজন মূলত ওমান, দুবাই, কুয়েত ও সৌদি আরবে যেতে চান। এসব দেশে ভিসা সংকট থাকায় বিদেশগামী মানুষের সংখ্যা কমেছে। তাছাড়া চট্টগ্রামে আয়-রোজগারের বিভিন্ন সুযোগ থাকায় কম মজুরির কাজের জন্য তারা বিদেশে যেতে আগ্রহী নন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।