ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গারা, পারকি সমুদ্র সৈকতই যেন নিরাপদ স্টেশন

0

জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা কোনোভাবেই ক্যাম্পের মধ্যে থাকতে চাচ্ছে না। প্রতিদিনই দালাল চক্রের মাধ্যমে বেরিয়ে ক্যাম্প থাকে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রামের পারকি সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টকে রোহিঙ্গা নামানোর নিরাপদ স্টেশন হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত পারকি সমুদ্র সৈকত, কর্ণফুলী টানেল সার্ভিস এরিয়া, রাঙ্গাদিয়া মাছের চরসহ সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে রোহিঙ্গা নামানোর ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার ভোরে পারকি সমুদ্র সৈকতে আবারও নামেন শিশু, নারীসহ ২০ জনের রোহিঙ্গার একটি দল। সকাল দশটার দিকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) ও কর্ণফুলী টানেল এলাকার কাঁদামাখা অবস্থায় এসব রোহিঙ্গাদের আটক করেন স্থানীয়রা।

তবে আটককৃত এসব রোহিঙ্গাদের সঠিক কোনো তথ্য আনোয়ারা ও কর্ণফুলী থানা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেননি। রোহিঙ্গাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। পুলিশ এসব ঝামেলা মনে করে রোহিঙ্গাদের বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের আটক করে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের হাতে তুলে দিলে তারা আশ্রয় ক্যাম্পে পৌঁছে দেন বলে জানান স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা জাহেদুল আলম বলেন, শুক্রবার সকালে শরীরে কাঁদামাখা শিশু, নারীসহ প্রায় ২০ জনের রোহিঙ্গার দলটি দেখতে পাই। তাদের গতিবিধি সন্দেহজন হলে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলি। এ সময় তারা ভাসানচর আশ্রয় ক্যাম্প থেকে পালিয়ে এসেছেন বলে স্বীকার করে। পরে বন্দর পুলিশ ফাঁড়িতে তাদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা সেখানে যেতে রাজি হয়নি। এ সময় রোহিঙ্গা দলটি সেখান থেকে অন্যত্র চলে যায়।

রোহিঙ্গা দলটির তার একটি ভিডিওতে বলতে দেখা যায়, নোয়াখালীর ভাচানচর ক্যাম্পে গ্যাস সংকট এবং তাদের স্বামী-সন্তান না থাকার কারণে তারা কক্সবাজার ক্যাম্পে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এ পথে এসেছেন।

তবে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, রোহিঙ্গা আসার কোনো তথ্য আমরা এখনও পর্যন্ত পাইনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম. লোকমান শাহ্ বলেন, নিজ দেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গারা বিষফোড়া হয়ে উঠছে। গত কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগরে নৌকা যোগে কর্ণফুলী টানেল সার্ভিস এরিয়া, পারকি সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটছে। এসব এলাকায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারির আহবান করছি।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর পারকি সমুদ্র সৈকতে নোয়াখালীর ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ২৫ জন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দুপুরে উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকতের পরুয়াপাড়া এলাকা থেকে আট শিশু, ছয় পুরুষ এবং ছয়জন নারীসহ ২০ জন, এরপরপরই কর্ণফুলী টানেল সার্ভিস এরিয়া থেকে ৮, একই এলাকা থেকে আরও ৩১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে স্থানীয়রা। তবে আটককৃত রোহিঙ্গাদের পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থাকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সংস্থার বাহিনীর সদস্যরা তাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ পর্যন্ত দালাল চক্রের সহযোগিতায় ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে প্রায় দুই শতাধিক রোহিঙ্গা শিশু, নারী, পুরুষ পালিয়ে এসেছে উপকূল এলাকায়। স্থানীয়রা তাদের বিভিন্ন সময়ে আটক করলে তারা জানান, দালালরা টাকার বিনিময়ে নৌকাযোগে পারকি সমুদ্র সৈকত এলাকায় পৌঁছে দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্থানীয় নাগরিকদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ও কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তক (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেছেন, শুক্রবার রোহিঙ্গা আসার কোনো খবর তাদের কাছে নেই। বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।