সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যস্থাপনায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের কৈখাইন গ্রামের প্রধান সড়কে। এতে প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা পোহাচ্ছেন চরম দুর্ভোগ। প্রতিদিন যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা যেমন বাড়ছে, তেমনি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
ভৌগলিক অবস্থানগত ভাবে আনোয়ারা সদরের অতি কাছে এ গ্রামের অবস্থান হলেও উপজেলা সদর থেকে ৭/৮ কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে এ গ্রামের মানুষ উপজেলা সদরের সাথে যাতাযাত রক্ষা করে থাকেন। বর্তমানে সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কাজ কাজ না হওয়ায় এ সড়কের ৩ কিলো মিটারের বেশি অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে সড়কটিতে যানবাহন ও সাধারন মানুষের হাঁটা চলাচলে চরম দুর্ভোগের শিকার।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্ষার পানি জমে ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের বিটুমিন ও পাথর উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত। একটু বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে সড়ক যেন ছোটখাটো জলাশয়ে পরিণত হয়। ফলে চলাচলের সময় গাড়ির চাকা গর্তে আটকে গিয়ে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ও জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সড়ক এখন অন্যতম বড় বাধা। ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রতিদিনের সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৈখাইন থেকে নোয়ারাস্তা পর্যন্ত মাত্র ১ কিলোমিটার বেঁড়িবাঁধের মাটির সড়কটি সংস্কার পূর্বক পাকাকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করলে উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপক উন্নতি হবে এবং কৈখাইনসহ স্থানীয় ১০ হাজারের বেশি মানুষ সুফল ভোগ করবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের কৈখাইন গ্রামে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করে। উপজেলা সদরের অতি কাছে এই গ্রামের অবস্থান হলেও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে স্থানীয়রা অনেক ভোগান্তিতে আছে। এ গ্রামের একমাত্র কৈখাইন সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সড়কের তিন কিলোমিটারের বেশি অংশে বড়-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এলাকার মানুষ অবর্ণীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ ব্যাপারে এলাকার সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এমপি মহোদয় অতিদ্রুত সড়কটি মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেছেন।’
এবিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন হলে কাজ শুরু করা হবে।’


