চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই জাহাজের সংঘর্ষ, অক্ষত ৩৩ হাজার টন ডিজেল

0

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি সানশাইনের সঙ্গে তেলবাহী ট্যাংকার এমটি সি স্পাইকের সংঘর্ষ হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুমের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পানি ঢুকলেও কার্গো ট্যাংকগুলো অক্ষত রয়েছে। জাহাজে থাকা প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলও নিরাপদ রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নোঙর করে থাকা এমভি সানশাইনের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তীব্র স্রোতের কারণে এমটি সি স্পাইকের নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, সংঘর্ষে ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুমের পোর্ট কোয়ার্টারে আনুমানিক এক বর্গমিটার ফাটল সৃষ্টি হয়। ওই অংশ দিয়ে পানি ঢুকে সাময়িক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। পরে জরুরি ব্যাটারির মাধ্যমে জাহাজটির ভিএইচএফ যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা হয়।

জাহাজটি স্থিতিশীল রাখতে দুটি নোঙরের ১০ শ্যাকেল করে চেইন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জোয়ার-ভাটার হিসাব অনুযায়ী, ভাটার সময়ও ট্যাংকারটি নিরাপদে ভাসমান থাকবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সংঘর্ষের পরপরই উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে নামে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড। বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট কান্ডারী-৮ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ট্যাংকারে থাকা জ্বালানি তেল দ্রুত খালাসের জন্য শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত ও উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্যালভেজ কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সংঘর্ষের পর ট্যাংকারের কার্গো ট্যাংকে কোনো পানি প্রবেশ করেনি এবং এখন পর্যন্ত কোনো ডিজেল বা তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়েনি। জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ভিএইচএফ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের মূল চ্যানেলে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।