কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে ধীরে ধীরে বেচাকেনা বাড়তে শুরু করলেও দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। হাটে পশুর সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় অনেক ব্যবসায়ী এখনো প্রত্যাশিত বিক্রি পাননি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) নগরের সাগরিকা পশুর হাটসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ায় হাট ভরে উঠেছে। বিক্রেতাদের হাঁকডাক, পশুর ডাক এবং দরদামে কিছুটা প্রাণ ফিরলেও ক্রেতার সংখ্যা এখনো সন্তোষজনক নয়।
অনেক ক্রেতা জানান, পশুর দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তারা এখনই কিনতে আগ্রহী নন। শেষ মুহূর্তে দাম কমতে পারে—এমন আশায় অনেকেই অপেক্ষা করছেন। অন্যদিকে বড় আকারের গরুর প্রতি আগ্রহ থাকলেও ছোট ও মাঝারি পশুর বিক্রি তুলনামূলক ধীর গতিতে চলছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় স্থানীয়ভাবে প্রায় ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি গরু, ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল, ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ এবং ৪১ হাজার ৪২৩টি ভেড়া মোটাতাজা করা হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের পশুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, গোখাদ্য, ওষুধ, শ্রমিক মজুরি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পশু পালনের খরচও বেড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা তুলনামূলক বেশি দাম চাইছেন। তবে ক্রেতাদের অনাগ্রহে এখনই কাঙ্ক্ষিত বিক্রি হচ্ছে না।
সাগরিকার হাটে আসা এক খামারি আবদুল কাদের বলেন, খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না, কিন্তু ক্রেতারা দাম শুনেই ফিরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে আরেক বিক্রেতা মো. সেলিম আশা প্রকাশ করে বলেন, ঈদের আর কয়েক দিন বাকি থাকায় শেষ সময়ে বাজার আরও জমে উঠবে।
মিরসরাইয়ের বড়দারোগাহাটে গরু নিয়ে আসা খামারি মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, তিনি আটটি গরুর মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যে বিক্রি করেছেন, তবে বাকি গরুগুলোর জন্য ক্রেতা মিলছে না।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, এবার উৎপাদন কিছুটা কমলেও দেশের অন্যান্য জেলা থেকে পর্যাপ্ত পশু আসায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলোতে সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার অনিশ্চয়তা এবং দাম নিয়ে টানাপোড়েনে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কোরবানির বাজার।


