চট্টগ্রামে বর্ষা সামনে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা

0

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত সাড়ে পাঁচ বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ হাজার ১৭৪ জন এবং মারা গেছেন ২২৬ জন। প্রতি বছরই রোগটির প্রকোপ নতুন মাত্রা পাওয়ায় এবারও আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জুন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৭ জন, মারা গেছেন একজন। চলতি বছরে আক্রান্তদের মধ্যে ১২০ জন মহানগর এলাকার এবং ৭৭ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে নয়জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময় ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকির মৌসুম হওয়ায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে আক্রান্ত হন ২৭১ জন এবং মৃত্যু হয় পাঁচজনের। ২০২২ সালে আক্রান্ত হন ৫ হাজার ৪৪৫ জন, মারা যান ৪১ জন। ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৮৭ জন আক্রান্ত ও ১০৭ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে আক্রান্ত ৪ হাজার ৩২৩ জন এবং মৃত্যু ৪৫ জন। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হন ৪ হাজার ৮৬৪ জন, মারা যান ২৫ জন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করতে পারলেই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দাবি করেছেন, বিটিআই লার্ভিসাইড ব্যবহারের ফলে আগের বছরের তুলনায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ কমেছে। চসিক জানিয়েছে, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ২০৫ জন স্প্রে ম্যান নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, অনেক এলাকায় এখনও নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।